জিনপিং-বাইডেন ফ্লপ, পুতিনের বাজি মোদী! বিশ্বযুদ্ধ রুখতে ভারতের শরণাপন্ন রাশিয়া?

আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে ক্রমশ বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনা এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি নিয়ে এবার বিশ্ব রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড়। মধ্যপ্রাচ্যের এই জ্বলন্ত সংকট মেটাতে এবং সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ রুখতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান বা অন্য কোনও মুসলিম রাষ্ট্র নয়, বরং ভারতের ওপরেই সম্পূর্ণ ভরসা রাখল রাশিয়া। মস্কোর এই রণকৌশলগত বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক কূটনীতির অলিন্দে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

ক্রেমলিন সূত্রের খবর, আমেরিকা এবং ইরানের সম্পর্ক বর্তমানে তলানিতে ঠেকেছে। যেকোনো মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে পুরোদস্তুর যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিতে দুই পরমাণু শক্তিধর শিবিরের মধ্যে আলোচনার সেতু তৈরি করতে পারে, এমন একটি নিরপেক্ষ ও প্রভাবশালী দেশের খোঁজ করছিল মস্কো। আর সেই তালিকায় বেজিং বা ইসলামাবাদকে সরিয়ে ক্রেমলিনের প্রথম পছন্দ হিসেবে উঠে এসেছে নয়াদিল্লির নাম।

রাশিয়ার কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এতটাই নড়বড়ে যে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মেনে নেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। অন্যদিকে, চীন প্রকাশ্যেই ইরানের পক্ষে সওয়াল করায় ওয়াশিংটন কখনই বেজিংয়ের মধ্যস্থতা মেনে নেবে না। এই জটিল সমীকরণে একমাত্র ভারতই এমন এক শক্তি, যাদের সঙ্গে যেমন রাশিয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রয়েছে, তেমনই ওয়াশিংটনের বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গেও দিল্লির সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত। পাশাপাশি, কৌশলগত কারণে ইরানের সঙ্গেও ভারতের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ যথেষ্ট মসৃণ।

রাশিয়ার এই প্রকাশ্য বার্তার পর সাউথ ব্লকের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ও গুরুত্ব এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। অতীতেও বিভিন্ন বিশ্বসংকটে ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান এবং শান্তির পক্ষে সওয়াল করার নীতি প্রশংসিত হয়েছে। এবার ট্রাম্প জমানার আমেরিকা এবং অনড় মনোভাবাপন্ন ইরানের মধ্যেকার এই ভয়ঙ্কর যুদ্ধ পরিস্থিতি রুখতে ভারত সত্যিই ‘ত্রাতা’র ভূমিকা নেয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy