জাল কাগজ দেখিয়ে ৪ কোটির ঋণ, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে প্রতারণার পর্দাফাঁস করল হাওড়া পুলিশ

হাওড়ায় ব্যাঙ্ক প্রতারণার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর্দাফাঁস করল পুলিশ। জমির ভুয়ো কাগজপত্র জমা দিয়ে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে, যার পরিমাণ ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের মধ্যে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত মানস রায়। দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্রটি ব্যাঙ্কের কর্মকর্তাদের চোখ এড়িয়ে জমির জাল নথিপত্র ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কাজ করছিল। ৪ কোটি টাকা ঋণের জালিয়াতি চক্রটি কীভাবে কাজ করছিল, তা নিয়ে পুলিশ দীর্ঘ সময় ধরে নজর রাখছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার হাওড়ার বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি অভিযান চালানো হয়। এই তল্লাশিতেই উদ্ধার হয় ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা নগদ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ধৃতরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই প্রতারণার জাল বুনেছিল। তারা মূলত এমন কিছু জমির কাগজপত্র ব্যবহার করেছিল, যেগুলির অস্তিত্ব বাস্তবে নেই বা যেগুলির নথিপত্র জাল। ব্যাঙ্কের ঋণের টাকা মঞ্জুর হওয়ার পর থেকেই ধৃতরা টাকাগুলি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিল। পুলিশের তৎপরতায় সেই বিপুল অঙ্কের অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
হাওড়া সিটি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং ব্যাঙ্কের কোনো আধিকারিক এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছে। ধৃতদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের তথ্যের ওপরও নজর রাখা হচ্ছে।
এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ভুয়ো নথিপত্র তৈরি করে কীভাবে ব্যাঙ্কের সিস্টেমকে ফাঁকি দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। হাওড়া পুলিশ এই মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং ধৃতদের বয়ান অনুযায়ী আরও তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ধৃত মানস রায় ও তার সহযোগীদের মাধ্যমে এই প্রতারণা চক্রের আরও কোনো বড় ঘাঁটি রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করাই এখন পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যাঙ্ক প্রতারণার মতো অপরাধ দমনে এই সাফল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন।