জাপান থেকে ভারতে ফিরবে নেতাজির চিতাভস্ম? সুপ্রিম কোর্টে বড় মোড় নিলেন নেতাজি-কন্যা অনিতা বসু পাফ!

নেতাজির অন্তর্ধান রহস্যের জট আজও ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক পরিমণ্ডলে এক অমীমাংসিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে গিয়েছে। ১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্ট তাইওয়ানে সংঘটিত এক বিমান দুর্ঘটনায় মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রথাগত ইতিহাসবিদদের একাংশ দাবি করলেও, অগণিত গবেষক এবং নেতাজি বিশেষজ্ঞরা এই তত্ত্বকে বরাবরই নস্যাৎ করে এসেছেন। এই দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের মাঝেই জাপানের টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে সযত্নে সংরক্ষিত থাকা নেতাজির কথিত ‘চিতাভস্ম’ সসম্মানে ভারতে ফিরিয়ে এনে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জোরালো দাবি নিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন নেতাজির একমাত্র কন্যা অনিতা বসু পাফ। তাঁর এই ঐতিহাসিক আইনি আবেদনের ভিত্তিতে এবার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চ কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদী সরকারের অবস্থান ও জবাব তলব করেছে, যা এই রহস্যময় মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

নেতাজির রহস্যমৃত্যু এবং তাঁর প্রয়াণ তত্ত্ব নিয়ে বিগত কয়েক দশক ধরে দেশজুড়ে কম জলঘোলা হয়নি। সত্যের অন্বেষণে কেন্দ্রীয় সরকার একের পর এক একাধিক তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল। ইতিপূর্বে শাহনওয়াজ কমিটি এবং বিচারপতি জিডি খোসলা কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে তাইওয়ানের তাইপেইয়ে বিমান দুর্ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে নেতাজির মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু ঠিক উলটো অবস্থান নিয়ে বিচারপতি মুখার্জি কমিশন সেই বিতর্কিত তত্ত্ব সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয়। ২০০৬ সালের মে মাসে পেশ করা সেই বিস্ফোরক তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছিল যে ১৯৪৫ সালের কথিত বিমান দুর্ঘটনায় আদপেই নেতাজির মৃত্যু হয়নি এবং জাপানের রেনকোজি মন্দিরে সযত্নে সংরক্ষিত চিতাভস্ম আদৌ নেতাজির নয়। যদিও তৎকালীন মনমোহন সিংয়ের সরকার সেই কমিশনের রিপোর্ট সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ইতিহাস বলে, তাইওয়ানে মৃত্যুর পর নেতাজির নশ্বর দেহ দাহ করা হয়েছিল এবং সেই চিতাভস্ম পরবর্তীতে জাপানে স্থানান্তরিত করা হয়। গত আট দশক ধরে সেই ছাই জাপানের রেনকোজি মন্দিবেই সংরক্ষিত রয়েছে।

রেনকোজি মন্দিরের এই চিতাভস্ম আদৌ ভারতের বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীর কি না, তা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক যখন চরমে, ঠিক তখনই আইনি লড়াইয়ের পথে হেঁটে সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছেন অনিতা বসু পাফ। এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। অনিতা বসু পাফের পক্ষে দেশের অন্যতম শীর্ষ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি সওয়াল করতে গিয়ে স্পষ্ট জানান যে, জাপানের টোকিও থেকে তাঁর বাবার চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে এনে সমস্ত ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান কন্যা। মেয়ের এই অন্তিম ইচ্ছার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান ঠিক কী, তা জানতে চেয়ে মোদী সরকারের উদ্দেশ্যে নোটিস ইস্যু করেছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চ। এখন এই বহুচর্চায় থাকা ঐতিহাসিক মামলায় কেন্দ্র কী জবাব দেয় এবং সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।