Abhishek Meets Speaker: ‘২ মাস হয়ে গেল… তবুও কেন ব্যবস্থা নয়?’ স্পিকারের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি তোপ দাগলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

দিল্লির সংসদ ভবনে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার দু’মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কেন কোনো পদক্ষেপ করা হলো না—এই জোরালো প্রশ্ন তুলে সরাসরি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।

১. অভিষেকের প্রধান দুটি প্রশ্ন ও অসন্তোষ

এদিন স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে মূলত দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছেন অভিষেক:

  • দলত্যাগ বিরোধী আইন ও চিঠি নিয়ে নিষ্ক্রিয়তা: তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে গত জুন মাসেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পৃথক ২০টি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এরপর জুলাই মাসেও স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন অভিষেক। কিন্তু দীর্ঘ দুই মাস কেটে গেলেও অভিযুক্ত সাংসদদের বিরুদ্ধে কেন কোনো শাস্তিমূলক বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

  • অনুমতি ছাড়া আসন পরিবর্তন: দ্বিতীয়ত, কোনো ধরনের আবেদন বা প্রাতিষ্ঠানিক অনুরোধ না থাকা সত্ত্বেও কোন যুক্তিতে তৃণমূল সাংসদদের লোকসভার আসন পরিবর্তন করা হলো, তা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন অভিষেক। তাঁকে প্রথম সারি থেকে সরিয়ে দ্বিতীয় সারিতে আসন দেওয়ার বিষয়টিকেও তিনি কড়া ভাষায় প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

২. স্পিকারের আশ্বাস ও সুপ্রিম কোর্টের হুঁশিয়ারি

অভিষেক জানান যে, তাঁর এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তরে স্পিকার তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, আগামী শীতকালীন অধিবেশনের আগেই এই বিষয়গুলি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে বিষয়টি দীর্ঘায়িত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিষেক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে এই বিষয়গুলি বিবেচনা করার কথা। যদি স্পিকার দ্রুত কোনো পদক্ষেপ না করেন, তবে বাধ্য হয়েই তাঁরা ফের সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের দাবি জানাবেন। হয় এনসিপিআই-কে সম্পূর্ণ মান্যতা দিয়ে দেওয়া হোক, নতুবা দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক—এই দুইয়ের মধ্যে যেকোনো একটি পথ বেছে নেওয়ার দাবি তুলেছেন তিনি।

৩. অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে, এই গোটা ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। দলত্যাগ করা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন যে এটি সম্পূর্ণ স্পিকারের এক্তিয়ারভুক্ত বিষয় এবং নথিপত্র সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার জন্যই হয়তো সামান্য সময় লাগছে। পাশাপাশি, এই বিষয়ে বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যও পুরো বিষয়টি লোকসভার স্পিকারের বিচ্যুতির ও সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন।