জাতীয় সড়ক, স্টেশন, স্কুল চত্বর থেকে এবার উধাও হবে সব পথকুকুর-গরু! কোথায় পাঠানো হবে? বড় নির্দেশিকা জারি

পথকুকুর (Stray Dogs) এবং রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো গবাদি পশুদের (Stray Cattle) নিয়ে শুক্রবার বড়সড় নির্দেশিকা জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আনজারিয়ার তিন সদস্যের বেঞ্চ এদিন এক যুগান্তকারী রায়ে জানিয়েছে, কোনো বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন বা শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান চত্বরে থাকবে না কোনো পথকুকুর! তাদের অবিলম্বে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে দূরবর্তী শেল্টারে।

শীর্ষ আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ওই শেল্টারগুলিতে Animal Birth Control (ABC) নিয়ম অনুযায়ী কুকুরদের টিকা দেওয়া থেকে শুরু করে বন্ধ্যাত্বকরণের (Sterilisation) সমস্ত কাজ করতে হবে স্থানীয় প্রশাসনকে।

হাইওয়ে থেকে সরাতে হবে ভবঘুরে গবাদি পশুদেরও!
পথকুকুরদের পাশাপাশি এবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ভবঘুরে গবাদি পশুদের ক্ষেত্রেও। সুপ্রিম কোর্ট এদিন রাজস্থান হাইকোর্টের একটি নির্দেশিকার উদাহরণ তুলে ধরে জানায়, পাবলিক রোড, হাইওয়ে এবং এক্সপ্রেসওয়ের আশপাশে ভবঘুরে গবাদি পশুর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তা উদ্বেগজনক।

গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলী:

জাতীয় সড়কের পশুকে শেল্টারে: রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে অবিলম্বে হাইওয়ে টহলদারি দল (Highway Patrolling Team) গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই দল রাস্তার ধার থেকে বেওয়ারিশ গবাদি পশুদের ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখবে।

যত্নের আশ্বাস: তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলিতে পশুদের সঠিক যত্ন নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।

রাজস্থান হাইকোর্টের মডেল: রাজস্থান হাইকোর্টের পদ্ধতি অনুসরণ করে সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সমস্ত জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বড় রাস্তার পাশ থেকে ভবঘুরে গবাদি পশুদের সরাতে হবে।

আদালত জানিয়েছে, “একটি যৌথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাইওয়ে, এক্সপ্রেসওয়ে এবং রোডওয়ের পাশ থেকে পশুমুক্ত করতে হবে।”

৮ সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট তলব
সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ এই নির্দেশকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। রাজ্য প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়ে বেঞ্চ সমস্ত রাজ্যের মুখ্য সচিবদের এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনকে এই নির্দেশ অবিলম্বে মেনে চলার কথা বলেছে। নির্দেশিকা পালনের অগ্রগতির রিপোর্ট আগামী ৮ সপ্তাহের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে হবে।