পুরনো সুগার মিলে বিরাট চমক! সোনাঝুরি হাটও কি সরছে? অনুব্রত মণ্ডলের উপস্থিতিতে বীরভূমে বড় ঘোষণা রাজ্যের

প্রায় দুই দশক ধরে বন্ধ থাকা বীরভূমের আহমেদপুর সুগার মিলের দিন ফিরতে চলেছে। পরিত্যক্ত ওই ৫৩ একর জমিতে তৈরি হতে চলেছে অত্যাধুনিক ‘বাণিজ্য উদ্যান’ বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। শুধু তাই নয়, জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলার জেরে শান্তিনিকেতনের পর্যটকদের আকর্ষণ সোনাঝুরি খোয়াই হাটটিও অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের।
শুক্রবার বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাগৃহে রাজ্য ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সিনার্জি (SYNERGY) ও বাণিজ্য সম্মেলন’-এ এই একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। সঙ্গে ছিলেন সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ ও সচিবরা।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হচ্ছে আহমেদপুরে
রাজ্যের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প তথা কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আহমেদপুরের সুগার মিল (যা ২০০২ সালে বন্ধ হয়ে যায়) নিয়ে তিনি বলেন, “প্রায় দু’দশক ধরে বন্ধ আহমেদপুরের সুগার মিল। এবার সেটি চালু করে সেখানে নতুন করে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”
মন্ত্রী আরও জানান, ইলামবাজার এবং লাভপুরেও ক্ষুদ্র বাজার গড়ার কাজ চলছে। এর ফলে কারিগর ও শিল্পীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।
অনুব্রত মণ্ডলের বার্তা: “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের দিকে তাকিয়েছেন। সুগার মিলটি অনেক দিন পড়েছিল, সেটা আবার উদ্ধার করা হচ্ছে। মন্ত্রী ভালো কাজ করছেন।”
সোনাঝুরি হাটের স্থান পরিবর্তনের ভাবনা
শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গলের খোয়াই হাট পর্যটকদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও, বর্তমানে বন দফতরের জায়গায় এই ব্যবসায়িক হাট বসানো নিয়ে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তের দায়ের করা মামলার কারণে জাতীয় পরিবেশ আদালতে এই হাট নিয়ে মামলা চলছে।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, “সোনাঝুরির হাট নিয়ে মামলা চলছে, সেটা বন্ধ হয়ে গেলে, বিকল্প ভাবনা আছে আমাদের।” ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প দফতর দ্রুত হাটটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা করবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বীরভূম-মুর্শিদাবাদে ঋণের বন্যা
এই সম্মেলন থেকে দুই জেলার কারিগরদের জন্য বিপুল আর্থিক সহায়তার তথ্যও প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রী জানান:
ঋণের লক্ষ্যমাত্রা: ২০২৪-২৫ সালে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প খাতে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বীরভূমে ৩ হাজার ৮৪৯ কোটি এবং মুর্শিদাবাদে ৫ হাজার ২৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে।
ক্লাস্টার উন্নয়ন: কাঁসা-পিতলের ক্লাস্টার উন্নয়নে ৯৩.৩০ লক্ষ টাকা এবং শান্তিনিকেতনের চর্মশিল্প ক্লাস্টার নির্মাণে প্রায় ১ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা ব্যয় সুসম্পন্ন হয়েছে।
কারিগরদের সুবিধা: এখনও পর্যন্ত এই দুই জেলায় ৪৫ জন কারিগরকে পশ্চিমবঙ্গ কারিগরি আর্থিক সুবিধা প্রকল্পে টুল কিট (Tool Kit) দেওয়া হয়েছে। সরকারি পোর্টালে ১৭ হাজার ৬৬৫ জন কারিগরের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে।
সম্মেলনে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দফতরের অতিরিক্ত সচিব রাজেশ পাণ্ডে, লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ, সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল এবং বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ সিং প্রমুখ।