জরুরি অবস্থার ৫০ বছর, ইন্দিরা গান্ধীর ‘গদি’ বাঁচাতে কি বলি হয়েছিল দেশের গণতন্ত্র?

১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার ৫০ বছর পূর্তিতে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদ। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী শুধুমাত্র নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। তিনি বলেন, “আমি জেপি আন্দোলনের একজন সৈনিক ছিলাম। ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচন বাতিল হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সেই ক্ষমতা বাঁচাতে গিয়েই সংবিধানের অপব্যবহার করা হয়েছিল।”
অন্যদিকে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এই দিনটিকে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে কালো অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সময় মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল এবং বাকস্বাধীনতা স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ২৫ জুন ১৯৭৫ থেকে মার্চ ১৯৭৭ পর্যন্ত চলা এই জরুরি অবস্থার সময় রাজনৈতিক গ্রেপ্তার, জোরপূর্বক নসবন্দি এবং প্রশাসনিক স্বৈরাচারের মতো ঘটনা ঘটেছিল।
রবিশঙ্কর প্রসাদ ও রেখা গুপ্তা—উভয়ই কংগ্রেসের সেই সময়ের ‘স্বৈরাচারী’ মানসিকতার কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, যারা আজও গণতন্ত্র রক্ষার কথা বলেন, তাদের ৫০ বছর আগের এই অন্ধকার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতেই ভবিষ্যতে সংবিধানের অপব্যবহার রোধে কঠোর আইনি সংশোধনী আনা হয়েছিল।