তারাতলা কাণ্ডে নয়া মোড়! বিধানসভায় ‘কালী’ রহস্য ফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রী, নাম জড়াল ক্যামাক স্ট্রিটের!

তারাতলার ভয়াবহ গুদামঘর বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত বিস্ফোরণ ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন। তাঁর অভিযোগ, তারাতলার এই মৃত্যুমিছিল নেহাত দুর্ঘটনা নয়, বরং পুরসভার দীর্ঘদিনের দুর্নীতিরই ফসল।

ফিরহাদের সই নিয়ে বিতর্ক: বিধানসভায় এদিন একটি নথি প্রদর্শন করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, নির্মাণ সংক্রান্ত নকশায় মারাত্মক ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও তাতে তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই ছিল। শুভেন্দু অধিকারীর তোপ, “দেখুন ফিরহাদ হাকিমের সই! স্ট্রাকচারের গাফিলতি জেনেই সই করা হয়েছে। নকশাতেই অসংগতি রয়েছে।”

কে এই ‘কালী’? এদিনের অধিবেশনের সবথেকে চাঞ্চল্যকর মুহূর্ত ছিল ‘কালী’ নামের উল্লেখ। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, কলকাতা পুরসভার অলিখিত নিয়ম হলো ‘কালী’র অনুমতি ছাড়া কোনো প্ল্যান পাস হয় না। তাঁর কথায়, “কালীকে খুঁজলেই সব বেরিয়ে যাবে। কালী অ্যাপয়েন্টেড বাই ক্যামাক স্ট্রিট!” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে কার্যত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী মূলত কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় নামক এক পুরকর্তাকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি দীর্ঘসময় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি (OSD) হিসেবে কাজ করেছেন। অতীতেও তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছিল।

দুর্নীতির টাকা তৃণমূল ভবনে? মুখ্যমন্ত্রী আরও বিস্ফোরক দাবি করেছেন যে, পুরসভার বিভিন্ন প্রকল্প থেকে টাকা সরিয়ে বাইপাস সংলগ্ন তৃণমূলের নতুন দলীয় কার্যালয় নির্মাণের কাজে লাগানো হয়েছে। তাঁর দাবি, “২০০ কোটি টাকা খরচ করে তৃণমূল ভবন তৈরি হচ্ছে। পুরসভা থেকে টাকা তুলে সেখানে পাঠানো হয়েছে। সব তথ্য আমাদের হাতে রয়েছে।”

উল্লেখ্য, তারাতলা বিপর্যয়ের ঘটনায় ইতিমধ্যে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার গভীরে যেতে এবং ‘কালী’ রহস্যের জট খুলতে তদন্তকারী সংস্থা কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।