মালদায় এসআইআর (SIR) হিংসা: এনআইএ-র জালে আরও এক বড় নেতা, ফাঁস করলেন ‘মাস্টারমাইন্ড’ সায়েম!

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এসআইআর (Special Intensive Revision বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে মালদায় যে ভয়াবহ হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, সেই মামলার তদন্তে বড় সাফল্য পেল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। এবার এনআইএ-র হাতে গ্রেফতার হলেন মোথাবাড়ির প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা সায়েম চৌধুরী, যিনি এলাকায় ‘বাবু চৌধুরী’ নামেই পরিচিত।
কেন গ্রেফতার সায়েম চৌধুরী? এনআইএ সূত্রে খবর, বুধবার কলকাতায় সংস্থার শাখা দফতরে দীর্ঘ ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর সায়েম চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, গত ১ এপ্রিল মালদার ২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের বেআইনিভাবে আটকে রেখে হেনস্থা করার ঘটনায় সায়েম সরাসরি যুক্ত ছিলেন। শুধু তাই নয়, ওইদিন বিডিও অফিসের সামনে প্ররোচনামূলক ভাষণ দিয়ে জনতাকে হিংসাত্মক পথে পরিচালিত করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
হিংসার নেপথ্যে ছিল কি গভীর ষড়যন্ত্র? তদন্তে এনআইএ জানতে পেরেছে, বিডিও অফিসে বিক্ষোভকারীদের যে দল ঢুকেছিল, তাদের পরিচালনার নেপথ্যে ছিলেন এই সায়েম চৌধুরী। ওই সংঘর্ষে ৯ জন পুলিশকর্মী গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ঘটনার আগের দিন থেকেই বিডিও অফিসের সামনে সভা করে তিনি পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলেছিলেন। অন্যান্য অভিযুক্তদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই আইন-অমান্য ও হামলার ছক সাজানো হয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে মোড়: উল্লেখ্য, ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া নিয়ে মালদার মোথাবাড়ি, কালিয়াচক ও সুজাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাপক বিক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। সেই বিক্ষোভ থেকে সৃষ্ট অরাজকতায় বিচারক ও আধিকারিকদের হেনস্থার ঘটনা জাতীয় স্তরে শোরগোল ফেলে দেয়। ঘটনায় একাধিক অভিযুক্তকে এর আগে গ্রেফতার করা হলেও, সায়েম চৌধুরীর মতো রাজনৈতিক নেতার গ্রেফতারি প্রমাণ করে যে তদন্ত এখন মূল ষড়যন্ত্রকারীদের দিকে এগোচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপ এখন কী হয় এবং এই ঘটনার শিকড় কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, সেটাই এখন দেখার বিষয়।