জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলা বর্তমানে ভয়াবহ দাবানলের গ্রাসে। তীব্র দাবদাহ এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে গত ১২ সপ্তাহে এই জেলায় অন্তত ৪৫টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজৌরি বন বিভাগের অন্তর্গত কালাকোট তহসিলের সিয়ালসুই খাদের বিস্তৃত বনভূমিতে আগুন লাগার ঘটনা জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজৌরির বন সংরক্ষক (পশ্চিম সার্কেল) সৎ পাল এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজৌরি এবং নওশেরা—এই দুই বন বিভাগ মিলিয়ে ৪৫টি আগুনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। সৎ পাল বলেন, “গত ১২ সপ্তাহে আমরা প্রচুর আগুনের মোকাবিলা করেছি। তীব্র গরমের কারণে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছিল, তবে সম্প্রতি বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় আমরা আশা করছি আগামী দিনে এই দাবানলের প্রকোপ কমে আসবে।”
বন সংরক্ষক আরও জানান, মূলত ‘সারফেস ফায়ার’ বা মাটির কাছাকাছি স্তরে আগুনের বিস্তৃতি দেখা যাচ্ছে। যদিও এটি গাছের মাথা দিয়ে ছড়ানো আগুনের তুলনায় কিছুটা কম বিধ্বংসী মনে হতে পারে, তবুও বাস্তুসংস্থানের ওপর এর প্রভাব মারাত্মক। বনের গাছপালা ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি পাখি, সরীসৃপ এবং বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক আবাসস্থল চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যেই এই ক্ষয়ক্ষতি রুখতে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক করা হয়েছে। আগুনের দ্রুত উৎস শনাক্তকরণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে বন দপ্তর, বন সুরক্ষা বাহিনী, সামাজিক বনসৃজন দপ্তর এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। যাতে আগুন ঘন জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়ে বিশাল এলাকা ধ্বংস করতে না পারে, তার জন্য সতর্ক প্রহরা রাখা হয়েছে।
এই সবুজ সম্পদ রক্ষা করতে সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন সৎ পাল। তিনি বলেন, “এই অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। আমি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে অনুরোধ করছি, বনে আগুন লাগার মতো কোনো বিষয় নজরে এলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানান এবং কোনোভাবেই অসতর্কতা প্রদর্শন করবেন না।”
রাজৌরির বনদপ্তরের এই লড়াই কেবল আগুন নেভানোর লড়াই নয়, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লড়াই। প্রশাসন আশাবাদী যে, বৃষ্টির ধারা বজায় থাকলে দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে এবং বনভূমি আবার তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।





