জন বার্লাকে সংখ্যালঘু কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ, উত্তরবঙ্গে জমি শক্ত করতে তৃণমূলের মাস্টার প্ল্যান

বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বার্লাকে এবার বড় সরকারি পদে আসীন করতে চলেছে রাজ্য সরকার। তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করা হতে পারে। রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘ জল্পনার পর অবশেষে এই নিয়োগের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে জন বার্লার দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হতে চলেছে।

নিয়োগের নেপথ্যে মুখ্যমন্ত্রী:

তৃণমূল সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং বার্লাকে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও সরকারি দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

  • জন বার্লার প্রতিক্রিয়া: এই বিষয়ে বার্লা খুব ধীরস্থির প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আমাকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে এখনও সরকারিভাবে কোনও নির্দেশ বা অর্ডার হাতে পাইনি। আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হলে আমি অবশ্যই তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব।”

  • কমিশনের প্রতিক্রিয়া: পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আহমেদ হাসান ইমরান এই নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, কমিশনে ভাইস চেয়ারম্যানের দু’টি পদের মধ্যে একটি খালি ছিল, যেখানে সরকার যাকে নিয়োগ করবে, তাঁকে তাঁরা স্বাগত জানাবেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন:

  • প্রভাবশালী নেতা: উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে, বিশেষত আদিবাসী ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত চা বাগান এলাকায় জন বার্লা একটি অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রভাবশালী নাম। ২০১৯ সালে তিনি বিজেপির টিকিটে আলিপুরদুয়ার থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হন।

  • দলবদল: ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে টিকিট না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ বার্লা চলতি বছরের ১৫ মে নাটকীয়ভাবে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন।

  • পথ প্রশস্ত: তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই তাঁকে রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর জল্পনা ছিল। গত ১৪ অগস্ট একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশনের বিধিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়, যা কার্যত বার্লার নিয়োগের পথ প্রশস্ত করে।

তৃণমূলের কৌশল:

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ‘লো-প্রোফাইল’ থাকার পর জন বার্লাকে এই সাংবিধানিক পদে পুনর্বাসিত করা তৃণমূলের একটি সুচিন্তিত কৌশল। তাঁর নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক ও প্রভাবকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ডুয়ার্স ও তরাই অঞ্চলে সংগঠনকে মজবুত করতে শাসকদল পুরোপুরি কাজে লাগাতে চাইছে।