ঐতিহ্যের দলিল, শান্তিপুর পুরসভার প্রায় ১৭৩ বছরের ইতিহাস নিয়ে প্রকাশিত হলো ৩৮২ পাতার তথ্যসমৃদ্ধ গ্রন্থ

পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী শান্তিপুর পুরসভা-কে কেন্দ্র করে একটি তথ্যসমৃদ্ধ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, যার পাতায় পাতায় রয়েছে এই প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৭৩ বছরের ইতিহাস। মোট ৩৮২ পাতার এই বইটি শনিবার শান্তিপুর কাশ্যক পাড়া চাকফেরা গোস্বামী বাড়ির নাটমন্দিরে উদ্বোধন করেন শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী।
শান্তিপুর পুরসভার গুরুত্ব:
বাংলার পুরপ্রশাসনের ইতিহাসে শান্তিপুর পুরসভার ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয় প্রাচীন পুরসভা: ১৮৫০ সালের ১ মে দার্জিলিংয়ে প্রথম পুরসভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, মাত্র তিন বছর পরে ১৮৫৩ সালের ১ অক্টোবর দ্বিতীয় পুরসভা হিসেবে শান্তিপুর পুরসভা আত্মপ্রকাশ করে।
অন্যান্য পুরসভার ভিত্তি: মাত্র তিন সদস্য নিয়ে শুরু হলেও, এই প্রাচীন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীকালে কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, নবদ্বীপ, বীরনগর ও চাকদহ-সহ একাধিক পুরসভা গঠনের পথকে দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছিল।
বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব: পণ্ডিত লক্ষ্মীকান্ত মৈত্রের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব একসময় এই পুরসভার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গ্রন্থের বিষয়বস্তু:
দীর্ঘ গবেষণা, দলিল-দস্তাবেজ পর্যালোচনা এবং স্থানীয় লেখকদের রচনাকে ভিত্তি করে সংগঠন **‘শান্তিপুর মরমী’**র পক্ষ থেকে বইটি প্রকাশিত হয়েছে।
বইটিতে রয়েছে পুরসভার পুরনো নথি, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কাছে পাঠানো চিঠি, অডিট রিপোর্ট, পুরনো বিজ্ঞাপন, দুষ্প্রাপ্য আলোকচিত্র এবং বহু অজানা দলিল।
এছাড়াও, তৎকালীন সময়ে পুরসভা পরিচালিত বিদ্যালয়, হাসপাতাল, কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং রাস্তায় আলোর ব্যবস্থা কীভাবে গড়ে উঠেছিল, তার বিশদ বিবরণ রয়েছে।
‘শান্তিপুর মরমী’ মনে করে, এই গ্রন্থটি শুধু একটি ঐতিহাসিক দলিল নয়, বরং এটি আগামী দিনের গবেষকদের জন্য এক অমূল্য সম্পদ। এটি শান্তিপুরের ইতিহাসচর্চায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।