ছোট ঋণে টান, বড় অঙ্কের দিকে ঝুঁকছে সংস্থা! বদলে গেল দেশের মাইক্রোফাইন্যান্স বা ক্ষুদ্রঋণ খাতের চেনা ছবি

ভারতের ক্ষুদ্রঋণ বা মাইক্রোফাইন্যান্স খাতে গত এক বছরে এক বিরাট আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সিআরআইএফ হাইমার্কের জুন ২০২৬ মাইক্রো ল্যান্ড রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক ক্ষুদ্রঋণ পোর্টফোলিও ৩.৫৯ লক্ষ কোটি টাকা থেকে ৭.৩ শতাংশ কমে ৩.৩৩ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে সক্রিয় ঋণগ্রহীতার সংখ্যাও। এই সংখ্যা ৮০ মিলিয়ন থেকে ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৬৬ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে, এবং সক্রিয় ঋণের মোট সংখ্যা ১৩২ মিলিয়ন থেকে কমে ১০৩ মিলিয়নে নেমেছে।
এই সংখ্যা হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে অতিরিক্ত ঋণগ্রহণ ও খেলাপি ঋণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংস্থাগুলির কৌশল পরিবর্তনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তথ্য বলছে, ঋণগ্রহীতার সংখ্যা কমলেও অবশিষ্ট গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ঋণের গড় পরিমাণ প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩২,৪০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত ছোট নতুন ঋণের পরিমাণ ৩৫ শতাংশ কমে গেলেও, ১ লক্ষ টাকার বেশি পরিমাণের বড় ঋণ প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন বিতরণে ১ লক্ষ টাকার বেশি ঋণের অংশ ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে।
সংস্থাগুলি এখন নতুন গ্রাহক খোঁজার চেয়ে পুরনো ও বিশ্বস্ত গ্রাহকদের ওপর বেশি ভরসা করছে। ২০২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে মোট নতুন ঋণের প্রায় ৫৫.৫ শতাংশই দেওয়া হয়েছে বিদ্যমান গ্রাহকদের। ১ লক্ষ টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৭৭.৬ শতাংশ। সময়মতো ঋণ পরিশোধকারী গ্রাহকদের পরবর্তী চক্রে বড় অঙ্কের ঋণ দিয়ে সংস্থাগুলি ঝুঁকির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে। এর ফলে খেলাপি ঋণের হারও নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। জুন ২০২৫-এ ৯১ থেকে ১৮০ দিন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের হার যেখানে ৩.১ শতাংশ ছিল, তা কমে জুন ২০২৬-এ মাত্র ০.০৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
একাধিক ঋণদাতা থেকে লোন নেওয়ার প্রবণতা রোধ করতে প্রতি গ্রাহকের জন্য সর্বাধিক তিনটি ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারীর সীমা এবং ৬০ দিনের বেশি খেলাপিদের নতুন ঋণ দেওয়া নিষিদ্ধ করার প্রবিধানগুলি ইতিবাচক ফল দিয়েছে। তবে বড় অঙ্কের ঋণ বা ২ লক্ষ টাকার বেশি দেনা থাকা গ্রাহকদের মধ্যে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা বেশি থাকায় পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই খাতটি। তাছাড়া আরবিআইয়ের নতুন নিয়মে এনবিএফসি-এমএফআইগুলির সম্পদ ধারণের সীমা ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬০ শতাংশ করায় সংস্থাগুলি এখন স্বর্ণ ঋণ ও এমএসএমই খাতের মতো বিকল্প খুচরা ঋণ পণ্যের দিকেও নজর দিচ্ছে।