‘ছেড়ে দাও গাজা’! শান্তি ফেরাতে ট্রাম্পের ‘বিস্ফোরক’ ২০ দফা প্ল্যান, দিলেন কড়া হুঁশিয়ারি!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে তাঁর বহু প্রতীক্ষিত ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই পরিকল্পনা পেশ করেন। ট্রাম্প এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যে ‘স্থায়ী শান্তি’ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে দাবি করেছেন।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজাকে হামাসমুক্ত করা, ইসরায়েলি পণবন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করা এবং গাজার দীর্ঘমেয়াদী পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতা আনাই প্রধান লক্ষ্য। ট্রাম্প এই প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিতে একটি ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করেছেন, যার চেয়ারম্যান তিনি নিজেই।
ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার মূল বিষয়গুলি:
ট্রাম্পের এই ২০ দফা পরিকল্পনায় গাজা সংঘাতের একাধিক দিক নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
১. যুদ্ধবিরতি এবং পণবন্দি মুক্তি
- যুদ্ধ সমাপ্তি: ইসরায়েল এবং হামাস উভয়েই প্রস্তাবে রাজি হলে তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ বন্ধ হবে।
- পণবন্দি মুক্তি: ইসরায়েল প্রকাশ্যে চুক্তি মেনে নেওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামাসকে সমস্ত ইসরায়েলি পণবন্দিদের (জীবিত ও মৃত) মুক্তি দিতে হবে।
- বন্দি বিনিময়: সমস্ত পণবন্দি মুক্তি পাওয়ার পর, ইসরায়েল তাদের কারাগারে থাকা ২৫০ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এবং ১৭০০ জন গাজা নিবাসীকে মুক্তি দেবে, যাঁদের ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর পরে আটক করা হয়েছে (সমস্ত মহিলা ও শিশু সহ)।
- সেনা প্রত্যাহার: জিম্মি মুক্তির প্রস্তুতির জন্য ইসরায়েলি বাহিনী তাদের অবস্থান থেকে নির্ধারিত সীমারেখায় সরে যাবে এবং এই সময়ে কোনো বোম্বিং বা মিসাইল অ্যাটাক হবে না।
২. হামাস ও নিরাপত্তা
- হামাসমুক্ত গাজা: গাজা হবে সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চল। হামাসের সব সুড়ঙ্গ ও সামরিক অবকাঠামো নষ্ট করা হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যাতে মাথাচাড়া দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।
- শান্তিপ্রিয় সদস্যদের সুযোগ: যে সকল হামাস সদস্য শান্তি চুক্তিতে এসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে রাজি হবে এবং তাদের অস্ত্র ত্যাগ করবে, তাদের সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হবে। যারা গাজা ছাড়তে চাইবে, তাদের নিরাপদ গমনের ব্যবস্থা করা হবে।
- আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা: গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স মোতায়েন করা হবে। এই বাহিনী সাময়িকভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং স্থানীয় ফিলিস্তিনি পুলিশ ফোর্সকে প্রশিক্ষণ দেবে।
৩. শাসন ও পুনর্গঠন
- নতুন সরকার: গাজার নতুন সরকার বা প্রশাসনে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না। সেখানে অরাজনৈতিক টেকনোক্র্যাট ফিলিস্তিনিদের নিয়ে একটি অস্থায়ী অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠন করা হবে, যা দৈনন্দিন কাজকর্ম চালাবে।
- পুনর্গঠন ও উন্নয়ন: গাজার জনগণের স্বার্থে সেখানে নতুন করে উন্নয়ন করা হবে। ‘বোর্ড অব পিস’ এই পুনর্গঠন কাজের তত্ত্বাবধান করবে এবং এর জন্য অর্থায়ন জোগাড় করবে।
- ভৌত কাঠামো: জল, বিদ্যুৎ এবং নিকাশি ব্যবস্থা দ্রুত তৈরি করার ওপর জোর দেওয়া হবে।
- ভূমি দখল নয়: ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে ইসরায়েল কোনো ভাবেই গাজা দখল করবে না। বরং তারা গাজা থেকে নিজের সৈন্যকে ডেকে নেবে এবং দখল করা জায়গাও পর্যায়ক্রমে ছেড়ে দেবে।
৪. জনগণের স্বাধীনতা
- দেশ ত্যাগে জোর নয়: কাউকে গাজা ছাড়তে জোর করা হবে না। তবে যারা স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়তে চান, তারা যেতে পারবেন।
প্রতিক্রিয়ার ঝড়
নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনায় সহমত জানালেও হামাস এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যদিও অনেক ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক এটিকে হামাসের প্রতি ‘আত্মসমর্পণের প্রস্তাব’ বলে মনে করছেন। অন্যদিকে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী, মিশর, জর্ডান, সৌদি আরব, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ একাধিক আরব দেশ এই শান্তি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।