বিস্ফোরক অভিযোগ! “পদ্মবিভূষণ পাওয়া ব্যক্তিরাও কি দেশদ্রোহী?” সোনম ওয়াংচুককে যোধপুর জেলে পাঠানোর পর সরব স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো

লাদাখের সুপরিচিত পরিবেশবিদ এবং উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুককে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (NSA) আটক করে যোধপুর জেলে পাঠানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তাঁর স্ত্রী ও HIAL-এর ডিরেক্টর গীতাঞ্জলি আংমো। মঙ্গলবার দিল্লির প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে প্রশ্ন তোলেন, “যে মানুষকে সরকারের মন্ত্রীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পুরস্কৃত করেছেন, সেই মানুষটি হঠাৎ করেই কীভাবে ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’ হয়ে গেলেন?”

আংমোর অভিযোগ, লাদাখের মানুষের দাবি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরব হওয়ার কারণেই তাঁর স্বামীকে ‘উইচ-হান্ট’ করা হচ্ছে।

“সরকারই দেশদ্রোহীকে পুরস্কার দিল?”
গীতাঞ্জলি আংমো সরকারের বিরুদ্ধে চরম দ্বৈত আচরণের অভিযোগ তোলেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ওয়াংচুক ও তাঁর সংস্থা (HIAL) যে প্রযুক্তি এবং প্রকল্পের জন্য পুরস্কৃত হয়েছিল, তার পেছনে কেন্দ্রের হাত ছিল।

কেন্দ্রের স্বীকৃতি: HIAL-এর সৌর-তাপ প্রযুক্তি প্রকল্প এবং বিখ্যাত আইস-স্তূপা প্রকল্পকে স্বয়ং কেন্দ্রীয় আদিবাসী মন্ত্রক এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থা পুরস্কৃত করেছিল।

বিস্ফোরক প্রশ্ন: আংমো বলেন, “যদি সোনম সত্যিই দেশদ্রোহী হতেন, তবে এই সরকারই কেন তাঁর কাজকে পুরস্কৃত করল? পুরস্কার দেওয়া মানুষ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কীভাবে হঠাৎ করে দেশবিরোধী হয়ে গেলেন?”

র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার: তিনি আরও বলেন, ওয়াংচুক মাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত। ৬০ জন ভারতীয় এই পুরস্কার পেয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০ জন পদ্মবিভূষণও পেয়েছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, “তাহলে কি সরকার নিজেই দেশদ্রোহীদের পদ্মবিভূষণ দিচ্ছে?”

জাতীয় নিরাপত্তার অভিযোগ ‘হাস্যকর’
ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে আনা বিদেশি যোগসাজশ, আর্থিক অনিয়ম ও জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দেন।

FCRA ও CBI: আংমো জানান, তাঁদের সংস্থা কোনো বিদেশি অনুদান নেয় না। তাদের গবেষণা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কিনে নেয়, যা পরিষেবা চুক্তির আওতায়। তিনি দাবি করেন, “CBI নিজেই স্বীকার করেছে যে কোনো নিয়মভঙ্গ হয়নি।”

পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ: মন্ত্রকের অভিযোগে বলা হয়, ওয়াংচুক এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন। আংমো এর জবাবে বলেন, ওয়াংচুক ইসলামাবাদে জাতিসংঘ এবং পাকিস্তানের ‘ডন’ মিডিয়ার যৌথ উদ্যোগে একটি জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “হিন্দুকুশ পর্বতমালা দুইশো কোটি মানুষের জল সরবরাহ করে। এমন একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়াটা কীভাবে অপরাধ হতে পারে?”

খাদ্য সার্বভৌমত্ব: তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্রামীণ মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা নিয়ে গবেষণাকে বিকৃত করে জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে সাজানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ‘হাস্যকর’।

আংমো স্পষ্ট জানান, “আমরা সব প্রমাণ, তথ্য ও নথি আদালতে পেশ করব। আমরা সত্য প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রাম নেব না।”

লেহ-তে গুলিকাণ্ড নিয়ে সরাসরি লাদাখ প্রশাসনকে দায়ী
২৪ সেপ্টেম্বর লেহ-তে বিক্ষোভে গুলিতে চার জন সাধারণ মানুষের নিহত হওয়ার ঘটনায় আংমো সরাসরি লাদাখ প্রশাসনের লেফটেন্যান্ট গভর্নর কাবিন্দর গুপ্ত ও ডিজিপি এস.ডি. জামওয়ালকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, “আমার স্বামী গান্ধীবাদী মূল্যবোধে বিশ্বাসী। তিনি কখনও হিংসার আশ্রয় নেননি। হিংসার জন্য দায়ী লাদাখ প্রশাসন।”

বর্তমানে লেহ শহরে টানা সপ্তম দিন কারফিউ জারি রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ৩ অক্টোবর পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রেখেছে। আংমোর দাবি, লাদাখের জনগণের দাবি পূরণের কথা বলাতেই সোনম ওয়াংচুককে এই দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছে।