কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর নাবালিকা কন্যাকে শ্লীলতাহানি এবং মারধরের অভিযোগে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী সঞ্জু শর্মাকে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শহরজুড়ে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, মারধর এবং খুনের চেষ্টার মতো একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, এই গোটা ঘটনার সূত্রপাত একটি ছুটির আবেদনকে কেন্দ্র করে। জানা গেছে, অভিযুক্ত সঞ্জু শর্মা টানা ১৫ দিন কাজ করার পর ১৫ দিনের ছুটির আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় সেই ছুটি মঞ্জুর করতে রাজি হননি। এই বিষয়টি নিয়েই বচসা শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বচসার মাঝেই সঞ্জু শর্মা চড়াও হন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাবালিকা কন্যার ওপর। তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মেয়ের চিৎকারে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটে এলে তাঁকেও শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়।
অভিযোগকারী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁকে বাধা দেওয়ার সময় অন্যান্যদের ওপরও চড়াও হন সঞ্জু। এরপর তিনি জোর করে বৈশাখীকে টেনে হিঁচড়ে একটি বেডরুমে নিয়ে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। মেয়ের সামনেই বৈশাখীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। পরিস্থিতি যখন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন অন্যান্য নিরাপত্তারক্ষীরা ঘরে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। কোনো রকমে আক্রান্তদের উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনার পরেই বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় রবীন্দ্র সরোবর থানায় সঞ্জু শর্মার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে এবং ঠিক কী কারণে পরিস্থিতি এতটা হিংস্র হয়ে উঠল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
যদিও এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রসঙ্গে শোভন চট্টোপাধ্যায় বা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়—কারও পক্ষ থেকেই এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে একজন প্রাক্তন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে এমন মারাত্মক অভিযোগ ওঠায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে জেরা করে ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এশিয়ানেট নিউজ বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আপাতত পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন।





