ছাত্রদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে রণক্ষেত্র ঝাড়খণ্ড! রাঁচির রাতু রোডে বিজেপি কর্মীদের তুমুল বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থী ও ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশের কথিত লাঠিচার্জ এবং বলপ্রয়োগের তীব্র প্রতিবাদে আজ রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘ঝাড়খণ্ড বনধ’ (Jharkhand Bandh)। বনধের সমর্থনে রাঁচির ব্যস্ততম রাতু রোড (Ratu Road) সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাস্তা আটকে তীব্র বিক্ষোভ দেখিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) নেতাকর্মীরা।
www.aninews.in
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ঝাড়খণ্ড পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
কেন এই আকস্মিক বনধ ও বিক্ষোভ?
গত সোমবার ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC)-এর প্রার্থীরা বিধানসভা ঘেরাও করে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল করেছিলেন। চাকরিপ্রার্থীদের প্রধান দাবি ছিল— জেএসএসসি-সিজিএল (JSSC-CGL) পরীক্ষা বাতিল করা এবং রিকারিং পেপার লিক বা প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের একটি উচ্চপর্যায়ের সিবিআই (CBI) তদন্ত নিশ্চিত করা।
www.aninews.in
কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় বিধানসভা গেটের সামনে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের হটাতে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস এবং বেধড়ক লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি রাতের অন্ধকারে মহিলা পরীক্ষার্থীদেরও রেয়াত করা হয়নি বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিরোধী শিবির। এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও ছাত্র অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে।
বিজেপির তীব্র আক্রমণ ও রাজ্যের পরিস্থিতি:
বনধের সমর্থনে মুখ খুলে ঝাড়খণ্ড সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ। তিনি ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, “আজ পুরো ঝাড়খণ্ড বনধ। পুলিশ চরম বর্বরতা চালিয়েছে—লাঠিচার্জ করা হয়েছে, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ছোঁড়া হয়েছে। এমনকি রাতে মেয়েদের ওপরও হাত তোলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্লজ্জতা দেখুন, উনি পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন! সরকারের উচিত ছিল শিশুদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।”
www.aninews.in
অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ড বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই রাজ্যব্যাপী বনধ চলবে মধ্যরাত পর্যন্ত। তবে জরুরি পরিষেবাগুলিকে এই বনধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। রাঁচির পাশাপাশি রাতু রোড, কাঁকে রোড, অর্গোরা এবং কিশোগঞ্জ এলাকায় বিজেপি কর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে এবং রাস্তায় বসে স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান।
ছাত্রদের এই আন্দোলন এবং রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ঝাড়খণ্ডের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে।