ডিভোর্সের দিনই দেখতে হয়েছিল এই ছবি! রেগে আগুন হয়ে করণকে যা শুনিয়েছিলেন দর্শকরা

মুক্তি পাওয়ার দুই দশক পূর্ণ করল করণ জোহর পরিচালিত এবং শাহরুখ খান, রানি মুখার্জি, অভিষেক বচ্চন ও প্রীতি জিন্টা অভিনীত কালজয়ী ছবি ‘কভি আলবিদা না kehna’ (Kank)। ২০০৬ সালের ১১ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে আসার পর থেকেই সম্পর্ক, বিবাহিত জীবনের অতৃপ্তি এবং আবেগঘন অবিশ্বাসের মতো সাহসী বিষয় নিয়ে তৈরি এই ছবিটি তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। ছবিটির ২০ বছর পূর্তিতে এক দীর্ঘ ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এর পেছনের নানা অজানা স্মৃতি ও দর্শকদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার কথা শেয়ার করেছেন পরিচালক করণ জোহর।

থিয়েটার ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন দর্শকরা
ছবির মুক্তির আগের রাতে একটি পেড প্রিভিউয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে করণ জানান, তিনি নিজের পরিচয় লুকিয়ে সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে ছবিটি দেখতে বসেছিলেন। তাঁর সামনেই বসা ছিল একটি মধ্যবিত্ত দম্পতি। শাহরুখ খান (দেব) ও রানি মুখার্জির (মায়া) হোটেল লিফটের সেই আবেগঘন দৃশ্য আসতেই স্ক্রিনে চোখ রেখেই ওই দম্পতি থিয়েটার ছেড়ে বেরিয়ে যান।

রাগী মহিলার মুখোমুখি করণ
হল থেকে বেরোনোর পর আরও বড় বিপাকে পড়েন পরিচালক। এক মহিলা তাঁর দিকে তেড়ে আসেন এবং তাঁর সাথে থাকা কেঁদে ফেলা মেয়েটির দিকে ইঙ্গিত করে ক্ষোভ উগরে দেন।

করনের ভাষায়—

“তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনিই কি করণ জোহর?! আমি আমার মেয়েকে একটা সুখী পারিবারিক ছবি দেখাতে এনেছিলাম, কারণ এটা আপনার ছবি। আর ঠিক যে দিন ও ডিভোর্স পেল, সেদিন আমাদের এই ছবি দেখতে হলো! আপনার লজ্জা হওয়া উচিত।’ আমার ভয় হয়েছিল যে মহিলাটি হয়তো আমাকে মারিয়েই বসবেন, তাই আমি সেখান থেকে দ্রুত সরে পড়ি।”

‘অ্যান্টি-সাঁংস্কারী’ তকমা এবং দ্বিমুখী মানসিকতা
ছবির মুক্তির পর দর্শক ও সমালোচকদের মতামত ছিল পুরোপুরি দ্বিধাবিভক্ত। একদল একে সাহসী ও বাস্তবধর্মী কাজ বললেও, অন্যপক্ষ একে ভারতীয় ঐতিহ্য ও পরিবারের পরিপন্থী বা ‘অ্যান্টি-সাঁংস্কারী’ বলে আক্রমণ করেন।

তবে এর কয়েকমাস পর এয়ারপোর্ট লাউঞ্জে এক মহিলার সঙ্গে হওয়া অন্যরকম একটি মজার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন পরিচালক। ওই মহিলা করনকে জানান যে তিনি সিনেমাটি লুকিয়ে একা অত্যন্ত পছন্দ করেছিলেন, কিন্তু স্বামীর সামনে লোকলজ্জার ভয়ে বলেছিলেন ছবিটি তাঁর ‘ঘৃণা’ লেগেছে। কারণ সত্যিটা বললে স্বামী তাকে জেরা করতে শুরু করতেন!

ভুল স্বীকার ও বর্তমান উপলব্ধি
দুই দশক পর এসে ছবির ত্রুটিগুলি খোলামেলাভাবে স্বীকার করেছেন করণ জোহর। তিনি জানান, ছবিটির স্কেল প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা বেশি জাঁকজমকপূর্ণ ছিল এবং মূলধারার সাথে মানিয়ে চলতে গিয়ে কিছু অপ্রয়োজনীয় গানও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি এও স্পষ্ট করে দেন যে—

ছবিটি কখনই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে সমর্থন বা গ্ল্যামারাইজ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি। * বরং এটি বোঝাতে চেয়েছিল যে, একটি মৃত বা ভাঙা সম্পর্কের বাইরে গিয়ে অন্য কোথাও ভালোবাসা খোঁজার চেষ্টা মানুষের পারিবারিক বুনিয়াদ এবং জীবনকে কীভাবে তছনছ করে দিতে পারে।

সময়ের সাথে সাথে সমাজের মানসিকতা বদলেছে এবং আজ অনেক তরুণ দর্শক ছবিটির মূল বক্তব্যকে অনেক বেশি পরিপক্বভাবে বুঝতে পারছেন বলেই মনে করেন পরিচালক।