ছয় দশকের গৌরবময় ইতিহাসের সমাপ্তি, ভারতীয় বিমান বাহিনী থেকে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিল ‘যোদ্ধা’ মিগ-২১

ভারতের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে এক যুগের সমাপ্তি ঘটল। ১৯৬০-এর দশকের গোড়ার দিকে ভারতীয় অস্ত্র ভাণ্ডারে যোগ হওয়া রাশিয়ার মিগ-২১ ফাইটার জেটকে শুক্রবার ২৬ সেপ্টেম্বর চণ্ডীগড়ের বিমানঘাঁটিতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হলো। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের আকাশপথ রক্ষার দায়িত্ব পালন করেছে এই ঐতিহাসিক যুদ্ধবিমান।
চণ্ডীগড় বিমান বাহিনী স্টেশনে ২৩ নম্বর স্কোয়াড্রনের অন্তর্গত “প্যান্থারস” ডাকনামের শেষ মিগ-২১ জেটগুলিকে বিদায় জানানো হলো। সবার মুখেই এক কথা— অলবিদা ‘ফাইটার’।
উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্টজনেরা
‘বিদায় মিগ-২১’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রাক্তন প্রধান এস. পি. ত্যাগী ও বি.এস ধানোয়া, এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা-সহ ভারতীয় বায়ুসেনার বিশিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিদায়বেলায় জাঁকজমকপূর্ণ প্রদর্শনী
মিগ-২১ ফাইটার জেটকে সম্মান জানাতে ভারতীয় বায়ুসেনা এদিন এক দর্শনীয় প্রদর্শনীর আয়োজন করে:
‘আকাশ গঙ্গা’ স্কাইডাইভিং: ভারতীয় বিমান বাহিনী’র অভিজাত স্কাইডাইভিং দল ‘আকাশ গঙ্গা’ ৮,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে স্কাইডাইভ করে দর্শনীয় প্রদর্শনী করে।
ফ্লাইপাস্ট: মিগ-২১ বিমানের জাঁকজমকপূর্ণ ফ্লাইপাস্টের মাধ্যমে বিমান যোদ্ধারা ড্রিল টিমকে স্যালুট জানায়।
ফর্মেশন: যুদ্ধবিমান চালকরা তিন-বিমানের ফর্মেশনে মিগ-২১ উড়ান এবং চার-বিমান প্যান্থার ফর্মেশন শেষবারের মতো আকাশে গর্জে ওঠে।
অ্যারোবেটিক্স: সূর্য কিরণের অ্যারোবেটিক দল তাদের শ্বাসরুদ্ধ করা স্কিল প্রদর্শন করে, যা দর্শকদের কাছে সবথেকে বড় ইভেন্ট ছিল।
ভারতীয় প্রতিরক্ষায় মিগ-২১ যুগের সমাপ্তি হলো। দেশের প্রথম সুপারসনিক ফাইটার হিসাবে এই সোভিয়েত যুগের ‘যোদ্ধা’ তার গৌরবময় ইতিহাস ও বীরগাথা রেখে নস্টালজিয়ার পাতায় ঠাঁই নিল।