চেয়ারের অবমাননা নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? বিধানসভায় কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ শাসকদলের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্দরে রাজনৈতিক উত্তাপ একেবারে চরমে উঠেছে। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের কঠোর নোটিশ আনল খোদ শাসকদল। শুক্রবার বিধানসভার অধিবেশনের প্রথম অর্ধের একেবারে শেষ লগ্নে এই অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়টি সরাসরি উত্থাপন করেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস। ঠিক তার আগের দিনই কুণাল ঘোষের একাধিক কার্যকলাপ ও আচরণকে বিধানসভার সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক ‘কলঙ্কময় অধ্যায়’ বলে অত্যন্ত কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সেই তীব্র উত্তেজনার রেশ ধরেই সপ্তাহের শেষ কাজের দিনে এই সরাসরি পদক্ষেপে শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে।
অধ্যক্ষের নির্দিষ্ট নির্দেশ মেনেই বিধানসভার ফ্লোরে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সামনে আনেন পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ। কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে নিজের তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “উনি সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে বিধানসভার চেয়ারের প্রতি অবমাননাকর ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করছেন। সুকৌশলে এই সাংবিধানিক চেয়ারটিকে ছোট করার হীন চেষ্টা চালাচ্ছেন। কোনো দায়িত্বশীল সাংবিধানিক পদে থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। আর ঠিক সেই সুনির্দিষ্ট কারণেই আজ আমরা তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিশ আনছি।”
এদিকে শাসকদলের পক্ষ থেকে এই নোটিশ আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করার পর নিয়ম মেনে অভিযুক্ত বিধায়ক কুণাল ঘোষকে নিজের মতামত ও সাফাই দেওয়ার সুযোগ দেন স্পিকার রথীন্দ্র বোস। কিন্তু স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান চাকদার বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত পাঁচ বছরে তাঁরা যখন বিধানসভায় বিরোধী শিবিরে ছিলেন, তখন স্পিকারের একপেশে নির্দেশে বহুবার তাঁদের বিনা নোটিশে সাসপেন্ড করা হয়েছে, এমনকি তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর পর্যন্ত দায়ের করা হয়েছে। সেই সময় তৎকালীন বিরোধীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সামান্য সুযোগটুকুও দেওয়া হয়নি। অথচ বর্তমান অধ্যক্ষ এই ধরনের গুরুতর আচরণের পরেও অভিযুক্ত কুণাল ঘোষকে নিজের বক্তব্য পেশ করার অবাধ সুযোগ করে দিচ্ছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিরোধী শিবিরের আপত্তি ও হৈচৈয়ের মধ্যেই বিধানসভার মেঝেতে দাঁড়িয়ে নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন কুণাল ঘোষ। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে তিনি প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, “আমি অধিবেশনের শুরুতেই অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আপনার এবং আপনার পবিত্র চেয়ারের প্রতি অসম্মান বা অবমাননা প্রকাশ করার আমার বিন্দুমাত্র কোনো উদ্দেশ্য অতীতেও ছিল না, আজও নেই। তবুও আমার কোনো কার্যকলাপে বা আচরণে যদি আপনার কাছে এমন মনে হয়ে থাকে যে তা চেয়ারের মর্যাদার পরিপন্থী বা অসম্মানের, তবে আমি নিশ্চিতভাবে সেটার জন্য গভীর দুঃখপ্রকাশ করছি।”