চুম্বন কি প্রেম নিবেদনের ভাষা? যে প্রাণীটি প্রথম ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়েছিল, সে মানুষ নয়, গবেষণা রিপোর্ট কাঁপালো বিশ্ব!

ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম প্রাচীন এবং সার্বজনীন ভাষা হলো চুম্বন। মানুষ ও মানুষের মতো আচরণকারী অনেক প্রাণীই ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে তাদের গভীর অনুভূতি প্রকাশ করে। কিন্তু এই চুমুর সূচনা কবে হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর এবার খুঁজে বের করেছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষকদের দাবি, পৃথিবীতে চুম্বনের সূচনা মানুষের হাতে হয়নি। বরং আজ থেকে প্রায় ২ কোটি বছর আগে গ্রেট এপ-দের মধ্যে এর জন্ম হয়েছিল! অর্থাৎ, শিম্পাঞ্জি, ওরাংওটাং, গোরিলা—মানুষের এই পূর্বপুরুষরাই ভালোবাসার এই ভাষাটির প্রথম ব্যবহারকারী।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় চাঞ্চল্য
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফ্লোরিডা ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির গবেষকেরা চুম্বনের সূচনাকাল নিয়ে গভীর গবেষণা চালান। তাঁদের এই চাঞ্চল্যকর গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘ইভোলিউশন অ্যান্ড হিউম্যান বিহেভিয়ার’-এ।

গবেষকেরা মূলত ‘গ্রেট এপ’-দের আচরণ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁরা চুম্বনের একটি বিশেষ সংজ্ঞা নির্ধারণ করেন: যেখানে দুটি প্রাণী পরস্পরের ঠোঁট বা মুখমণ্ডলকে ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে স্পর্শ করছে, সেটিকেই চুমু বলে গণ্য করা হবে।

বিশেষ তথ্য: গবেষণায় সংখ্যাতত্ত্বের (Statistical Model) একটি বিশেষ মডেল ব্যবহার করা হয়, যার সাহায্যে তারা প্রায় ২ কোটি বছর আগের এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

যৌনতা নয়, আবেগের প্রকাশ
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ ছাড়াও আরও অনেক প্রাণী আছে যারা চুম্বনের মতো আচরণ করে। যদিও অনেক প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি আক্রমণাত্মক হতে পারে বা খাবার মুখে তোলার অঙ্গভঙ্গি হতে পারে, তবে গ্রেট এপ-দের মধ্যে এটি ছিল মূলত ভালোবাসা ও আবেগের প্রকাশ।

আবির্ভাবের কারণ এখনও রহস্য
কবে চুমু খাওয়া শুরু হয়েছিল, সেই তথ্য জানা গেলেও চুম্বনের আবির্ভাবের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনও কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তবে গবেষকেরা আশা করছেন, তাঁদের এই গবেষণাটি ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য নতুন রাস্তা খুলে দেবে, যার মাধ্যমে একদিন চুম্বনের জন্ম রহস্যের পূর্ণাঙ্গ কারণ জানা যাবে।

বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তা রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রেম নিবেদনের এই প্রাচীন পদ্ধতিটির ঐতিহাসিক সত্য জানার পর অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।