‘সিন্ধু ভূমি ভারতে ফিরে আসবে!’, রাজনাথ সিংয়ের বিস্ফোরক মন্তব্যে ইসলামাবাদে তীব্র আতঙ্ক, শান্তি প্রক্রিয়া কি তবে শেষ?

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ইতিহাসে ফের উত্তেজনার পারদ চড়ালো। এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ঐতিহাসিক ‘সিন্ধু’ অঞ্চল। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের একটি বক্তব্য দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তার এই মন্তব্যকে পাকিস্তান সরাসরি ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে দেখছে।
‘সীমান্ত পরিবর্তনশীল, কালকেই সিন্ধু ভারতে ফিরতে পারে’
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্যটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া, সর্বত্র ভাইরাল হয়েছে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “আজ সিন্ধুর ভূমি ভারতের অংশ নাও হতে পারে, কিন্তু সভ্যতাগতভাবে সিন্ধু সর্বদা ভারতের অংশ ছিল এবং থাকবে। আর যতদূর ভূমির কথা, সীমান্ত তো পরিবর্তনশীল। কে জানে, কালকেই সিন্ধু ভারতে ফিরে আসতে পারে।”
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক আবেগ। তিনি সিন্ধুর মানুষ, বিশেষ করে সিন্ধু নদীকে পবিত্র মানা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি ভারতের অটুট বন্ধনের কথা তুলে ধরেছেন।
“সিন্ধুর লোকেরা সিন্ধু নদীকে যেমন পবিত্র মানে, তেমনি আমরাও। তারা যেখানেই থাকুক, তারা আমাদেরই,”—রাজনাথ সিংয়ের এই আবেগময় উক্তি সিন্ধু হিন্দুদের প্রতি ভারতের সহানুভূতিকে স্পষ্ট করেছে।
পিওকে-র পর এবার সিন্ধু: অখণ্ড ভারতের আবেগ
উল্লেখ্য, এই প্রথম নয়। রাজনাথ সিংয়ের এই মন্তব্য তাঁর পূর্ববর্তী বক্তব্যের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এর আগে মে মাসে তিনি পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) নিয়ে বলেছিলেন, পিওকের মানুষ ভারতের পরিবারের অংশ এবং তারা নিজেরাই একদিন ফিরে আসবে।
ভারতবাসী বিশ্বাস করে, প্রাচীন সভ্যতার জন্মস্থান সিন্ধু উপত্যকা ভারতীয় ইতিহাসের মূল স্রোতের অংশ। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় সিন্ধু পাকিস্তানের অংশ হয়ে যাওয়ায় লক্ষ লক্ষ হিন্দু ও শিখ সিন্ধুকে ভারতে পাড়ি দিতে হয়েছিল। বিজেপি নেতা এল.কে. আদবানির মতো ব্যক্তিত্বরা তাঁদের লেখায় স্বীকার করেছেন, তাঁদের প্রজন্ম আজও এই বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারেনি। রাজনাথ সিংয়ের এই উক্তি সেই দীর্ঘদিনের আবেগকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে।
ইসলামাবাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া: ‘প্ররোচনামূলক ও জিঙ্গোয়িস্টিক’
তবে রাজনাথের এই বক্তব্য পাকিস্তানের কাছে কাঁটা হয়ে বিঁধেছে। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রণালয় রাজনাথের মন্তব্যকে “জিঙ্গোয়িস্টিক” (দেশপ্রেমের অতি-উগ্র প্রকাশ) এবং প্ররোচনামূলক বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, এমন বক্তব্য সীমান্তে অস্থিরতা আরও বাড়াবে এবং উপমহাদেশে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করবে।
পাকিস্তান মিডিয়ায় এই বক্তব্যকে “ধ্বংসের” সংকেত এবং ভারতের ‘আগ্রাসী মনোভাবের’ প্রমাণ বলে প্রচার করা হচ্ছে। অক্টোবর মাসে সির ক্রিক এলাকায় পাকিস্তানের কোনো “ভুল পদক্ষেপ” হলে ভারতের “কঠোর প্রতিক্রিয়া” ইতিহাস ও ভূগোল পরিবর্তন করতে পারে—রাজনাথের পূর্ববর্তী সেই সতর্কতার পর সিন্ধু নিয়ে এই মন্তব্য ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গভীর ছায়া ফেলেছে।