সাধারণ মানুষের দুপুরের সস্তার আহার কি তবে এবার বন্ধ হতে চলেছে? প্রশ্নটা এখন ঘুরপাক খাচ্ছে কলকাতার রাজপথে। কোভিড অতিমারির সময় যে ‘মা ক্যান্টিন’ বহু গরিব ও নিম্নবিত্ত মানুষের অন্নের সংস্থান করেছিল, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথেই সেই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
শহর জুড়ে ইতিমধ্যেই অন্তত ৫০টি মা ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরে চাল, ডাল, ডিম বা অন্যান্য কাঁচামালের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি।
থমকে গেছে পরিষেবার চাকা
কলকাতা পুরসভার অধীনে শহরের ১৩০টিরও বেশি কেন্দ্রে খাবার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল নির্দিষ্ট কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ওপর। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে উপকরণ সরবরাহ করা হলেও, পুরো বিষয়টির তদারকি করত পুরসভা। পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ বা বিল অনুমোদন হবে কি না, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে ধন্দ তৈরি হয়েছে। আর এই দোলাচলের কারণেই সাময়িকভাবে অনেক জায়গায় পরিষেবা থমকে গেছে।
খাবার সরবরাহকারী এক সংস্থার কর্তা বলেন, “আমরা প্রতিদিন প্রায় ৮ হাজার মানুষের জন্য রান্না করতাম। কিন্তু নতুন করে কাঁচামাল না আসায় শুক্রবার থেকে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে।”
কোথায় কোথায় বন্ধ হলো ক্যান্টিন?
ইতিমধ্যেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার খবর মিলেছে। এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরের দুটি ক্যান্টিন ছাড়াও কালীঘাট সেতু সংলগ্ন এলাকা, ভবানীপুরের পূর্ণ সিনেমা হলের সামনে এবং প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের লর্ডস মোড় এলাকার ক্যান্টিনগুলি বন্ধ হয়ে গেছে।
নজর আগামী সপ্তাহের দিকে
আগামী শনিবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ নেওয়ার কথা। তার আগেই এই জনপ্রিয় প্রকল্পের ভাগ্য ঝুলে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এই প্রকল্প চালু হয়েছিল। মাত্র ৫ টাকায় ভাত-ডাল-সবজি আর ডিমের মিল পেতে প্রতিদিন কয়েক হাজার শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক ও দিনমজুর এই ক্যান্টিনগুলির সামনে ভিড় জমাতেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যে সরকারি স্তরে আলোচনার পর বোঝা যাবে যে নতুন সরকার এই প্রকল্প আদৌ চালিয়ে নিয়ে যাবে কি না। আপাতত সেই উত্তরের অপেক্ষাতেই দিন গুনছে শহরের হাজার হাজার পেট।





