অপেক্ষার অবসান! দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে আজ থেকে বাংলার মসনদে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে গেরুয়া রাজ। আর এই ঐতিহাসিক ক্ষণের সাক্ষী থাকতে আজ খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হাজির হলেন কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। ব্রিগেডের জনসমুদ্রে তাঁর প্রবেশ ছিল এক কথায় রাজকীয়। যেন এক নতুন ভোরের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বার্তা দিলেন— “পরিবর্তনের যাত্রা আজ পূর্ণতা পেল।”
এদিন ব্রিগেডের ময়দানে প্রধানমন্ত্রীর এন্ট্রি ছিল চোখে পড়ার মতো। কোনো প্রথাগত কনভয় নয়, বরং জনতাকে আরও কাছে পেতে একটি সুসজ্জিত হুডখোলা গাড়িতে চেপে ময়দানে প্রবেশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ ‘রথে’ তাঁর ঠিক একপাশে ছিলেন বাংলার হবু মুখ্যমন্ত্রী তথা নন্দীগ্রামের লড়াকু নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্যপাশে ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই তিন শীর্ষ নেতাকে দেখামাত্রই উপস্থিত লক্ষাধিক জনতার মধ্যে উন্মাদনার বিস্ফোরণ ঘটে। ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী এবং দুই নেতা হাত নেড়ে জনতার ভালোবাসার অভিবাদন গ্রহণ করেন।
আজকের দিনটি বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ২০০৬ থেকে শুরু হওয়া বাম জমানার পতনের পর যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, ২০২৬-এর এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে এসে তার এক নতুন রূপ দেখছে বঙ্গবাসী। বাংলার শাসনভার এবার বিজেপির হাতে। আর এই নতুন ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কাণ্ডারি হিসেবে আজই শপথ নিতে চলেছেন শান্তিকুঞ্জের মেজো ছেলে শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই হবে এই রাজকীয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। শান্তিকুঞ্জ থেকে মহাকরণ (বা নবান্ন) জয়ের এই দীর্ঘ লড়াই আজ পূর্ণতা পেতে চলেছে। গেরুয়া সমর্থকদের উন্মাদনার পারদ আজ তুঙ্গে, কারণ বাংলার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী রাজপাটের দায়িত্ব নিতে চলেছেন।





