চারতলা বাড়ি কার্যত ধ্বংসস্তূপ! রাজারহাটে বিস্ফোরণের নেপথ্যে কি বড় কোনো ষড়যন্ত্র?

রাজারহাটের দক্ষিণনারায়নপুরে এক ভাড়া বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই বিস্ফোরণে বাড়িটির দুটি ঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরগুলোর জানলা এবং পাখা বিস্ফোরণের তীব্রতায় দুমড়ে-মুচড়ে উড়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মজুত করে রাখা কোনো বোমা থেকেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। বাড়িটির চারতলার নিচের তলায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় এক যুবক একটি ব্যাগ নিয়ে ওই ঘরে প্রবেশ করে। সেই যুবক ঢোকার মাত্র ৪ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যেই বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। তবে ওই ব্যাগের ভেতরেই বোমা ছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, শাহেনশাহ নামে এক স্থানীয় দালাল মাত্র দুদিন আগেই ঘরটি ভাড়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। এরপর থেকে ওই ঘরে কেউ ছিল না বলেই প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। বিস্ফোরণের সময় পাশের ঘরেই ছিলেন এক বাসিন্দা। তিনি বলেন, “গতকাল রাত ৮টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। শাহেনশাহ একজনকে ভাড়ার জন্য নিয়ে এসেছিল। ঘর দেখানোর পর ভাড়া দেওয়া হয়। আগে থেকে সেখানে কেউ ছিল না। ওই যুবক ঢোকার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের ধাক্কায় আমিও আঘাত পেয়েছি।”
ঘটনার পর থেকেই ওই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই বাড়ির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ভাড়াটের ছদ্মবেশে কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেখানে বিস্ফোরক মজুত করেছিল। তবে বিস্ফোরণের উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজারহাটের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া বলেন, “ঘটনার খবর রাতেই পেয়েছি। পুলিশকে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। এলাকার মানুষ এখন প্রচণ্ড আতঙ্কে রয়েছেন। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।” বিরোধীদের দাবি, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে, পুলিশি তদন্তের ওপর ভরসা রাখছে স্থানীয়রা। ঘটনার তদন্তে ফরেন্সিক দলের সাহায্য নেওয়ার কথাও ভাবছে পুলিশ। রাজৈরাটের এই বিস্ফোরণ আদতে কোনো বড় নাশকতার ছক কি না, তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা।