রাজধানী দিল্লির বুকে আবারও সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও বেআইনিভাবে ভারতে বসবাস করার অভিযোগে উত্তর-পশ্চিম দিল্লি থেকে ৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করল পুলিশ। মুখার্জি নগর থানা এলাকার একটি ভাড়ার বাড়ি থেকে তাদের পাকড়াও করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, একটি সাধারণ বিবাদ থেকেই এই জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে। দিল্লির মুখার্জি নগর এলাকায় স্থানীয় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা চলাকালীন কয়েকজন ব্যক্তি অনর্গল বাংলায় কথা বলতে শুরু করে। তাদের কথাবার্তা ও হাবভাব স্থানীয়দের কাছে অস্বাভাবিক ঠেকায় তাঁরা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। অভিযোগ পেয়েই সক্রিয় হয় মুখার্জি নগর থানার পুলিশ। মডেল টাউনের এসিপি সুরেশ চন্দর এবং এসএইচও রাজীব শাহের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে। সন্দেহভাজনদের আটক করে শুরু হয় টানা জেরা। জেরা করতে গিয়েই পুলিশ অবাক হয়ে যায়, কারণ তারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি নাগরিক এবং দীর্ঘদিন ধরে বৈধ নথিপত্র ছাড়াই দিল্লিতে লুকিয়ে ছিল।
পুলিশি জেরায় ধৃতরা জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের পারমানন্দপুরের বাসিন্দা। এদের নাম রহমত উল্লাহ (২৩), মহম্মদ আশরাফুল (২৩), সালমান ভুঁইয়া (২৫), মহম্মদ রাসেল (৩৭) এবং মহম্মদ রহিম মিয়া (৩৩)। ধৃতরা জানায়, তারা প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা সময়ে বিমানে করে পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিল। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল দিল্লি থেকে গ্রিসে পাড়ি দেওয়া এবং সেখানে গিয়ে চাকরি করা। ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে তারা গ্রিসে চাকরির অফার ও ইন্টারভিউয়ের জন্য দিল্লির ইন্দিরা বিকাশ কলোনির একটি ভাড়া বাড়িতে অপেক্ষা করছিল। কিন্তু ভিসার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা আইনি জটিলতা এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছিল।
তদন্তে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ধৃতরা জানিয়েছে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদের আশ্রয় দিতে সাহায্য করেছিল গণপতি বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই গণপতি পশ্চিমবঙ্গের মালদা শহরের স্থায়ী বাসিন্দা। বাংলাদেশিদের ইন্দিরা বিকাশ কলোনিতে ভাড়া বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল এই ব্যক্তিই। পুলিশ এখন এই দালালের খোঁজে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে।
ধৃতদের কাছ থেকে কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (FRRO) কাছে ধৃতদের হাজির করা হয়েছে। তাদের নিয়ম মেনে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দিল্লিতে লুকিয়ে থাকার জন্য তারা এমন একটি এলাকা বেছে নিয়েছিল যেখানে প্রচুর ছাত্রছাত্রী ও বাইরে থেকে আসা মানুষ থাকেন, যাতে তাদের উপস্থিতি সহজে ধরা না পড়ে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। এই ঘটনার পর দিল্লিতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ওপর নজরদারি আরও বাড়াচ্ছে পুলিশ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মালদার ওই দালালের নেটওয়ার্ক আরও বড় হতে পারে, যার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।





