গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের মহাভিযান শুরু! উদ্বোধনী দিনেই সোনা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন মোদি

আজ থেকে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে বিশ্ব ক্রীড়ার অন্যতম আকর্ষণ ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমস। এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের শুভ সূচনার পবিত্র ক্ষণে ভারতীয় অ্যাথলেটদের উদ্দেশে অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক ও উদ্দীপনামূলক বার্তা পাঠিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গেমসের উদ্বোধনী দিনে সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে নিজের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে একটি বিশেষ পোস্ট করে তিনি ভারতীয় দলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশের লাল-সবুজ জার্সির অ্যাথলেটরা চরম “উচ্ছ্বাস, দৃঢ়সংকল্প এবং শ্রেষ্ঠত্বের স্পিরিট” নিয়ে গেমসের প্রতিটি ইভেন্টে নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দেবেন। প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন যে, আমাদের দেশের কৃতি ক্রীড়াবিদদের অনন্য দক্ষতা, ইস্পাতকঠিন নিষ্ঠা এবং কঠোর পরিশ্রম সর্বদা দেশের কোটি কোটি তরুণ প্রজন্মকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে এবং এগিয়ে চলতে অনুপ্রাণিত করে।

চলতি বছরের এই গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের পদক জয়ের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একদল বিশ্বমানের ও প্রতিষ্ঠিত তারকা অ্যাথলেটকে ময়দানে নামানো হয়েছে। এই তারকাখচিত দলে অন্যতম প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জ্যাভলিন থ্রো-র মহাতারকা তথা অলিম্পিক স্বর্ণপদক বিজয়ী নীরজ চোপড়া, ভারোত্তোলনের গর্ব অলিম্পিক পদকজয়ী মীরাবাই চানু এবং বক্সিং রিংয়ের হেভিওয়েট ক্যান্ডিডেট তথা অলিম্পিক পদকজয়ী লাভলিনা বরগোহাইন। তবে এই মহাযজ্ঞের ঠিক প্রাক্কালেই ভারতের ভারোত্তোলন দল এক বড়সড় ধাক্কার মুখোমুখি হয়েছে। বাছাইপর্বের সময় ডোপিং-বিরোধী নিয়ম লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগে কোটা কমে যাওয়ায় দলটির শক্তি খানিকটা হলেও হ্রাস পেয়েছে।

যদি বিগত আসরগুলির সঙ্গে তুলনা করা হয়, তবে দেখা যাবে যে ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে ভারত অত্যন্ত দুর্দান্ত প্রদর্শন করে মোট ৬১টি পদক (যার মধ্যে ছিল ২২টি স্বর্ণ, ১৬টি রৌপ্য এবং ২৩টি ব্রোঞ্জ পদক) অর্জন করে সামগ্রিক তালিকায় চতুর্থ স্থান দখল করেছিল। কিন্তু গ্লাসগো ২০২৬-এর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। অর্থনৈতিক এবং আয়োজক সংক্রান্ত নানা জটিলতার কারণে এইবারের গেমসের সামগ্রিক কর্মসূচিকে ব্যাপকভাবে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। মাত্র ১০টি নির্দিষ্ট খেলা এবং ২১৫টি পদক ইভেন্ট নিয়ে এইবারের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা ১৯৯৪ সালের পর থেকে এটিকে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত বা ছোট সংস্করণে পরিণত করেছে।

মূলত প্রাথমিক আয়োজক অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্য অনুদান ও খরচ সংক্রান্ত কারণে সরে দাঁড়ানোর পর স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো অত্যন্ত অল্প সময়ের নোটিসে আয়োজকের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়। বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বাড়তি খরচ এড়াতে পূর্বনির্ধারিত বা বিদ্যমান ভেন্যু ও পরিকাঠামো ব্যবহার করার লক্ষ্যে আয়োজকরা এই সংক্ষিপ্ত মডেলটি অত্যন্ত সুকৌশলে গ্রহণ করেছে। তবে এই সংক্ষিপ্ত ক্রীড়াসূচি ও ইভেন্ট ছাঁটাইয়ের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ভারতের সামগ্রিক পদক জয়ের সম্ভাবনার ওপর। বিশেষ করে ব্যাডমিন্টন, হকি, কুস্তি, টেবিল টেনিস এবং শ্যুটিং-এর মতো ঐতিহ্যশালী খেলাগুলি, যেগুলি থেকে অতীতে ভারত সবথেকে বেশি পদক নিজেদের ঝুলিতে ভরতো, সেগুলি এইবারের সংস্করণ থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে।

এইবারের গোটা ক্রীড়া কার্যক্রমটি সম্পূর্ণভাবে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরের মাত্র কয়েকটি নির্দিষ্ট ভেন্যুর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানত স্কটস্টাউন স্টেডিয়াম, স্কটিশ ইভেন্ট ক্যাম্পাস, গ্লাসগো ইন্টারন্যাশনাল এরিনা এবং বিখ্যাত টোলক্রস ইন্টারন্যাশনাল সুইমিং সেন্টারেই সমস্ত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ ও ইভেন্টগুলি পরিচালিত হচ্ছে। ঐতিহ্যশালী এবং পদক আননকারী বেশ কিছু খেলা বাদ পড়ার পরেও ভারতীয় অ্যাথলেটরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে দেশের জন্য গৌরব ছিনিয়ে আনতে কতটা সফল হন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।