তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পুলিশি এফআইআর (FIR) দায়েরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তোলপাড় দুনিয়া। আইনি জটিলতা বাড়ার খবরের মাঝেই এবার এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল অভিযোগকারী তথা সমাজকর্মী রাজীব সরকারের বিস্ফোরক বয়ান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে পেট্রোল ঢেলে দিল। তাঁর সাফ দাবি, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বক্তব্য সবসময় সংবিধানসম্মত হওয়া উচিত। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, তা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং বড়সড় অপরাধের শামিল। এই অপরাধের জন্য তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিত বলেও দাবি তুলেছেন তিনি।
“ওটা রাজনৈতিক ভাষা নয়, গুন্ডার ভাষা”
ঠিক কী কারণে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকি দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগে মামলা রুজু হলো? সেই প্রসঙ্গে মুখ খুলে সরাসরি অভিষেককে নিশানা করেছেন রাজীব সরকার। তাঁর অভিযোগ, এবারের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার ঠিক পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে ‘দেখে নেব’ বলে কড়া ভাষায় হুমকি দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিযোগকারীর ক্ষোভ, “এটি কোনো সুস্থ রাজনৈতিক ভাষা হতে পারে না, এটি আসলে ‘গুন্ডার ভাষা’। দল বা পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, বাংলার কোনো নেতার এই ধরনের কুরুচিকর ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করার বিন্দুমাত্র অধিকার নেই।”
প্রমাণ হাতে ডাক পেলেন সমাজকর্মী, পেছনে কি বড় ষড়যন্ত্র?
রাজীব সরকার জানান, তিনি স্রেফ মুখের কথায় অভিযোগ করেননি। গত ৫ তারিখ বাগুইআটি থানায় লিখিত বয়ানের পর সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ সহ তিনি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় ডিজিটাল ডায়েরি করেছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, সেই সংক্রান্ত অকাট্য ভিডিও ফুটেজ ও ডিজিটাল লিঙ্ক খতিয়ে দেখার পরেই মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, আজ সেই সমস্ত অকাট্য তথ্য ও নথির আসল প্রমাণ পেশ করার জন্যই পুলিশ তাঁদের ডেকে পাঠিয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, অভিষেকের গ্রেফতারির দাবিতে অনড় থেকে এক প্রকার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন এই সমাজকর্মী। তাঁর বক্তব্য, “এই গোটা বিষয়ের পেছনে এক গভীর ও বড়সড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে। আমরা সমস্ত তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করেছি এবং সময়মতো আদালতের সামনেই সবটা ফাঁস করা হবে।”
বিপাকে অভিষেক, কোন কোন ধারায় ঝুলছে তলোয়ার?
প্রাথমিক তদন্ত এবং সমাজকর্মীর দেওয়া ডিজিটাল প্রমাণের গুরুত্ব খতিয়ে দেখেই বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল FIR দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিষেকের বিরুদ্ধে যে ৫টি ধারা দেওয়া হয়েছে, তা বেশ সংবেদনশীল।
এর মধ্যে নতুন ফৌজদারি আইন অর্থাৎ ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS)-এর তিনটি ধারা এবং ‘জনপ্রতিনিধিত্ব আইন’-এর দুটি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। সবথেকে বড় বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি ধারা সম্পূর্ণ জামিন অযোগ্য (Non-bailable)। ফলে সাইবার ক্রাইম থানার এই এফআইআর-এর জেরে আগামী দিনে যে যুবনেতার আইনি বিপদ ও অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এই হাইপ্রোফাইল মামলার জল শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।





