গ্রেফতারের পথে অভিষেক? ইডি-সিআইডির সাঁড়াশি চাপে চাপে পিষ্ট ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ!

বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী আবহে যখন তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের সুর প্রবল, তখন আইনি বেড়াজালে আরও কোণঠাসা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED), অন্যদিকে রাজ্য পুলিশের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি (CID)—এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে এখন নাজেহাল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণ শেষে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইনের হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সেটা আর সম্ভব হবে না।”

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার বিকেলে, যখন আচমকাই অভিষেকের কালীঘাট রোডস্থ বাসভবনে হানা দেন ইডি-র চার সদস্যের একটি দল। স্কুল শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আর্থিক তছরুপের অভিযোগে তাঁকে তলব করা হয়েছে। আগামী ১৫ জুন ইডি দফতরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্য সিআইডি-র তলবও তাঁকে চাপে ফেলেছে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার সই জাল করার একটি মামলায় তাঁকে তলব করেছিল সিআইডি। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়ালেও, সিআইডি আধিকারিকরা সরাসরি তাঁর বাড়িতে গিয়ে নথিতে সই করিয়ে আসেন এবং ৮ জুন পুনরায় তলব করেন।

আইনি এই জোড়া ফলার মাঝেই নতুন বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে কলকাতা পুরসভার নোটিশ। অভিষেকের ‘শান্তিনিকেতন’ বাসভবনে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার নামে এবং কালীঘাট রোডের বাড়িতে তাঁর মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ তুলে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যদিও কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে তিনি আপাতত ৩ সপ্তাহের সময় পেয়েছেন, কিন্তু পুরসভার এই নজরদারি তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তৃণমূলের এই চরম বিপর্যয়ের মুহূর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর এই আইনি চাপ দলের সাংগঠনিক ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। দিলীপ ঘোষের হুঁশিয়ারি আরও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি প্রাক্তন হেভিওয়েট নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অনুব্রত মণ্ডলের উদাহরণ টেনে সাফ জানিয়েছেন, অতীতে অনেকেই অসুস্থতার নাটক করে হাজিরা এড়াতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শেষমেশ তাঁদের হাজতে যেতেই হয়েছিল। দিলীপের মতে, আইন এবার তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং অভিষেকের ক্ষেত্রেও কোনো ব্যতিক্রম হওয়ার সুযোগ নেই।

রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন উঠছে, দলীয় ভাঙন এবং আইনি লড়াই—এই দুই সংকটের মোকাবিলা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে করবেন? ইডি-সিআইডির এই তৎপরতা কি তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ওপর কোনো দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে? সবকিছু মিলিয়ে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে রাজ্যের শাসকদল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy