‘গোবর জল’ দিয়ে শুদ্ধিকরণ! দলীয় দফতরে পুজো-আচ্চার পরিবেশ, কুমারগ্রামে তৃণমূলের পার্টি অফিস বিতর্কে শোরগোল

আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) দলীয় কার্যালয়ে চলল ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রক্রিয়া। প্রাক্তন ও বর্তমান ব্লক সভাপতির মধ্যে তীব্র রেষারেষির জেরেই গোবর লেপা, জল দিয়ে ধোয়া, ধূপ ও ধুনো জ্বালিয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে কর্মীদের একাংশ। শাসক দলের অন্দরের এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
ব্লক সভাপতি বদল ও কোন্দল
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর কুমারগ্রামের ব্লক সভাপতি হিসেবে দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ধীরেশ চন্দ্র রায়। সম্প্রতি দলের সাংগঠনিক রদবদল হয়। ধীরেশকে সরিয়ে নতুন ব্লক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় সুদয় নার্জিনারিকে। আর এরপরই কোন্দল প্রকাশ্যে আসে।
আসবাবপত্র প্রত্যাহার: ব্লক সভাপতি পদ হারানোর পর ধীরেশ রায় কুমারগ্রাম ব্লকের ঘোড়ামারা চৌপথিতে তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি করা দলীয় কার্যালয় থেকে নিজের ব্যবস্থা করা সব আসবাবপত্র, টেবল-চেয়ার, ইন্টারনেট ব্রড-ব্যান্ড লাইন-সহ সমস্ত সামগ্রী ফিরিয়ে নিয়ে যান।
শুদ্ধিকরণ: প্রাক্তন নেতার আসবাবপত্র তুলে নিয়ে যাওয়ার পরেই বর্তমান ব্লক সভাপতি সুদয় নার্জিনারির ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কর্মীরা ফাঁকা পার্টি অফিসে জল দিয়ে ধুয়ে, মেঝেতে গোবর লেপে এবং ধূপ-ধুনো জ্বালিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করেন।
অভিযোগ, নতুন কমিটি এসে পার্টি অফিসের টেবলের ড্রয়ার ভেঙে ফেলেছে এবং ভবনের নামের বোর্ড পর্যন্ত খুলে ফেলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই ধীরেশ নিজের জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে যান।
বিজেপির কড়া কটাক্ষ
শাসক দলের কার্যালয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’-এর এমন ঘটনা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপি নেতৃত্ব। কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওঁরাও তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “ক্ষমতায় থাকলে এরা বাবাকেও ছাড়ে না। মানুষ এসব কাণ্ড দেখে বিরক্ত।” তিনি আরও দাবি করেন, “কয়েক মাসের মধ্যেই দেখবেন তৃণমূলের অস্তিত্ব থাকবে না। পুরো সাফ হয়ে যাবে। তখন মানুষ এই জায়গাগুলো গঙ্গাজল, গোবর জল দিয়ে পরিষ্কার করবে।”
শাসক দলের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ে দলীয় কার্যালয়ের এমন পরিণতিতে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।