সূর্যের প্রচণ্ড তেজ আর গরম বাতাস—এই দুয়ে মিলে নাজেহাল জনজীবন। অস্বস্তিকর গরমে তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই ছুটছেন প্যাকেটজাত কোল্ড ড্রিংকসের দিকে। কিন্তু বিজ্ঞাপনের মোড়কে থাকা এই পানীয়গুলো স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী? এই প্রশ্নের উত্তরেই সম্প্রতি ‘মন কি বাত’-এর ১৩৪তম পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে রেখেছেন এক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ। তিনি জানিয়েছেন, তৃষ্ণা মেটাতে এবং শরীরকে সতেজ রাখতে আমাদের দেশীয় বা ঐতিহ্যবাহী পানীয়ের কোনো বিকল্প নেই।
শতাব্দী প্রাচীন এই পানীয়গুলি কেবল সতেজতাই দেয় না, এগুলো আমাদের সমৃদ্ধ খাদ্য ঐতিহ্যেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রধানমন্ত্রীর মতে, স্থানীয় উপাদান দিয়ে তৈরি এই পানীয়গুলো গরমের দিনে শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে জাদুর মতো কাজ করে। দেখে নেওয়া যাক গ্রীষ্মের দাবদাহে নিজেকে সুস্থ রাখতে কোন দেশি পানীয়গুলো সেরা:
১. বাটারমিল্ক ও নীর মোর: দই থেকে তৈরি বাটারমিল্ক পেটকে হালকা রাখে এবং শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা করে। দক্ষিণ ভারতের ‘নীর মোর’-ও একইভাবে মশলাদার ও সতেজকারী।
২. লস্যি: উত্তর ভারতের ঐতিহ্যবাহী লস্যি কেবল তৃপ্তিই দেয় না, দীর্ঘক্ষণ শরীরকে চনমনে রাখতে সাহায্য করে।
৩. ছাতুর শরবত: বিহার ও ঝাড়খণ্ডের এই জনপ্রিয় পানীয় ভাজা ছোলা থেকে তৈরি। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, যা অফিসগামী ও শ্রমিকদের জন্য আদর্শ।
৪. আম পান্না: কাঁচা আম থেকে তৈরি এই পানীয়টি টক-মিষ্টি স্বাদের জন্য সবার প্রিয়। লু-এর প্রকোপ থেকে বাঁচতে এর জুড়ি মেলা ভার।
৫. বেলের শরবত: গ্রীষ্মে পেট ঠান্ডা রাখতে বেলের শরবতের কোনো তুলনা হয় না। এটি বহু যুগ ধরে শরীরকে শীতল রাখতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
৬. পানকম ও কোকুম শরবত: গুড় ও মশলা দিয়ে তৈরি দক্ষিণ ভারতের ‘পানকম’ এবং মহারাষ্ট্রের ‘কোকুম শরবত’ গরমে শরীরকে সতেজ রাখতে অতুলনীয়।
কেন এই দেশি পানীয়গুলো সেরা?
বাজারের রাসায়নিকযুক্ত পানীয়ের বদলে এই দেশি পানীয়গুলো প্রাকৃতিক। এগুলো সহজলভ্য, সস্তা এবং সবচেয়ে বড় কথা—আমাদের শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষভাবে কার্যকর। প্রধানমন্ত্রী মোদীর পরামর্শ অনুযায়ী, আধুনিকতার মোহে পড়ে নিজস্ব ঐতিহ্যকে ভুলে না গিয়ে, এই গরমে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এই পানীয়গুলোকে জায়গা করে দিন। এতে কেবল স্বাস্থ্যই ভালো থাকবে না, নিজের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগও বজায় থাকবে। গরমের দুপুরে ক্লান্তি দূর করতে আজই বাড়িতে তৈরি করে ফেলুন এই স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু শরবতগুলো।





