খেজুরি হত্যাকাণ্ড: তদন্তকারী অফিসারের ভূমিকা নিয়ে হাইকোর্টের সন্দেহ, কেন ময়নাতদন্তের আগে ও পরে চিকিৎসককে ফোন?

পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে দুই বিজেপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তকারী অফিসারের ভূমিকা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের সন্দেহ আরও জোরাল হয়েছে। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) মামলার শুনানিতে বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি শাব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ এই প্রশ্ন তোলে।

গত ১২ জুলাই জলসা দেখতে গিয়ে সুজিত দাস এবং সুজিত পাইক নামে দুই বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। তমলুক মেডিক্যাল কলেজের প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছিল যে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু নিহতদের পরিবারের দাবি ছিল যে, তাদের খুন করা হয়েছে। এরপর হাইকোর্টের নির্দেশে SSKM হাসপাতালে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হলে দেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, যা খুনের তত্ত্বকে আরও জোরালো করে তোলে।

এদিন সিআইডি (CID) আদালতে কেবল ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও তদন্তকারী অফিসারের কল ডিটেলস জমা দেয়। সেই রিপোর্ট দেখে আদালত বিস্মিত হয়ে জানতে চায়, ময়নাতদন্তের ঠিক আগে ও পরে তদন্তকারী অফিসার (IO) কেন বারবার চিকিৎসককে ফোন করেছিলেন? আদালত জানায়, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, তদন্তকারী অফিসারের ভূমিকা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়।

রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) জানান, এখনো পর্যন্ত সন্দেহজনক কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু আদালত এই উত্তরে সন্তুষ্ট হয়নি। কোর্ট প্রশ্ন তোলে, “যেখানে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি, শুধু মুখের কথাতেই রাজ্য বলে দিচ্ছে… তাহলে কীসের ভিত্তিতে রাজ্য বলে দিচ্ছে যে সন্দেহজনক কিছু নেই?”

রাজ্য এ বিষয়ে নথি জমা দেওয়ার জন্য আরও সময় চেয়েছে। তাই আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।