প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (পিএম-কিষাণ) প্রকল্পের সুবিধাভোগী কোটি কোটি কৃষকের জন্য সুখবর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার ২৩তম কিস্তির টাকা হস্তান্তরের প্রস্তুতি শুরু করেছে কৃষি মন্ত্রক। সারা দেশে ১০ কোটিরও বেশি কৃষক এই প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত আছেন, যারা প্রতি চার মাস অন্তর ২,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পান। সর্বশেষ ২২তম কিস্তি গত ১৩ মার্চ, ২০২৬-এ কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল। এরপর থেকেই ২৩তম কিস্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন কৃষকরা।
পিএম-কিষাণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বছরে মোট ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এই টাকা বছরে তিনটি সমান কিস্তিতে সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। ২৩তম কিস্তির সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে বিভিন্ন মহলে জোর আলোচনা চলছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, তবে অনেক বিশেষজ্ঞ ১৮ জুন তারিখটিকে সম্ভাব্য দিন হিসেবে দেখছেন। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ২০২৪ সালের এই দিনেই ১৭তম কিস্তির টাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল।
তবে বাংলার কৃষকদের জন্য রয়েছে বাড়তি প্রাপ্তি। রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ৬,০০০ টাকার সাথে অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকা যুক্ত করে মোট ৯,০০০ টাকা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অর্থাৎ, বিজেপির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলার কৃষকরা এবার বর্ধিত এই আর্থিক সুবিধা পেতে চলেছেন, যা তাদের কৃষি কাজের ব্যয় নির্বাহে বিশেষ সহায়তা করবে।
২৩তম কিস্তির টাকা দ্রুত ও নির্বিঘ্নে পেতে হলে কৃষকদের কিছু জরুরি কাজ সম্পন্ন করতে হবে। কৃষি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে সমস্ত কৃষক এখনও তাদের ই-কেওয়াইসি (e-KYC) সম্পন্ন করেননি, তাদের দ্রুত এই প্রক্রিয়াটি শেষ করতে হবে। কেওয়াইসি ছাড়া কিস্তির টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে ঢোকা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সরকারি পোর্টালে কিস্তি হস্তান্তরের চূড়ান্ত তারিখ সাধারণত টাকা ছাড়ার এক থেকে দুই সপ্তাহ আগে ঘোষণা করা হয়।
ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ। কৃষকরা চাইলে ঘরে বসেই পিএম-কিষাণ পোর্টালে গিয়ে ওটিপি (OTP)-র মাধ্যমে এটি সম্পন্ন করতে পারেন। এছাড়া, সরাসরি সুবিধা স্থানান্তরের (DBT) ক্ষেত্রে যাতে কোনো জটিলতা তৈরি না হয়, সেজন্য কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবশ্যই আধার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক করতে হবে। পাশাপাশি, ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি যাতে এনপিসিআই (NPCI)-এর সাথে যুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এই নিয়মগুলো মেনে চললে ২৩তম কিস্তির টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিপত্তি ঘটবে না।





