খাবারে ২০টি ঘুমের ওষুধ, তারপর নৃশংস খুন! বাথরুমে দেহ পুঁতে ঢালাই করল স্ত্রী

স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যে যে এমন এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ছক লুকিয়ে থাকতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি পুলিশ আধিকারিকরা। আগ্রার এই ঘটনায় গৃহবধূ রুবি শর্মার ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনা ও নিষ্ঠুরতা দেখে স্তম্ভিত তদন্তকারীরা। খুনের পর বাথরুমের মেঝের নিচে দেহ পুঁতে কংক্রিটের ঢালাই করে দেওয়ার ঘটনাটি যেন ক্রাইম থ্রিলারকেও হার মানায়।

কীভাবে ঘটল নৃশংস হত্যাকাণ্ড? তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ১৮ মে নিখোঁজ হওয়ার দিন রুবি তাঁর স্বামী সুরেন্দ্র শর্মার রাতের খাবারের সঙ্গে ১৫ থেকে ২০টি কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়। স্বামী গভীর ঘুমে তলিয়ে যাওয়ার পরই তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। এরপর রুবি অতি ঠান্ডা মাথায় বাথরুমের মাটি খুঁড়ে দেহটি পুঁতে ফেলে। খুনের পরদিন সকালেই দিনমজুর ডেকে এনে মাটি চাপা দেওয়ার পর রাজমিস্ত্রি ডেকে বাথরুমের মেঝে কংক্রিট দিয়ে পাকা ঢালাই করিয়ে নেয় সে।

স্বাভাবিকতার মুখোশ: দীর্ঘ ৪৫ দিন ধরে রুবি যে অভিনয় করেছে, তা দেখে আশেপাশের প্রতিবেশীরাও কোনো আঁচ পাননি। সুরেন্দ্র নিখোঁজ হওয়ার পর রুবি নিজেই নিখোঁজ ডায়েরি করে এবং প্রতিবেশীদের কাছে স্বামীর জন্য কান্নাকাটির নাটক করে সহানুভূতি আদায় করত। সে অবলীলায় সকলকে বলত, “উনি বাইরে কাজে গেছেন, শীঘ্রই ফিরবেন।”

ধরা পড়ল কীভাবে? রুবির অতিরিক্ত অভিনয় ও বয়ানের অসামঞ্জস্য দেখে সুরেন্দ্রর ভাই অনিলের সন্দেহ হয়। তিনিই পুলিশের কাছে রুবির দিকে আঙুল তোলেন। এরপর পুলিশের কড়া জেরার মুখে রুবি নিজের দোষ স্বীকার করে নেয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বাথরুমের মেঝে খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে সুরেন্দ্রর পচাগলা মৃতদেহ।

তদন্তের পরিধি: পুলিশ জানিয়েছে, ভরতপুরে একটি পারিবারিক ঝামেলার জেরে আইনের চক্করে পড়ার ভয়েই রুবি এই নৃশংস সিদ্ধান্ত নেয় বলে জেরায় জানিয়েছে। তবে এত বড় পরিকল্পনা একা রুবি বাস্তবায়ন করতে পেরেছিল কি না, নাকি এই লাশ লোপাটের ঘটনায় অন্য কেউ তাকে সাহায্য করেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগ্রার এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে।