রাজ্যের শাসনক্ষমতা পরিবর্তনের এক মাস অতিক্রান্ত। দীর্ঘ ১৫ বছরের দাপট শেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পতন ঘটেছে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়া বইলেও রাজ্যের ক্রীড়া জগতের প্রশাসনিক কাঠামোতে এখনও বজায় রয়েছে তৃণমূল জমানার প্রভাব। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরে দাঁড়ালেও, তাঁর পরিবারের সদস্যদের সরকারি বিভিন্ন পদে টিকে থাকা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক।
তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই ভাই—স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় (বাবুন) এবং অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়—এখনও বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদ আঁকড়ে রয়েছেন। তালিকাটি দেখলেই স্পষ্ট হয় যে, ক্রীড়া প্রশাসন কার্যত তাঁদের ব্যক্তিগত বলয় হয়ে উঠেছিল।
ক্রীড়া সংস্থায় বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্রাজ্য:
স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে মোট সাতটি পদে বহাল রয়েছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বেঙ্গল স্টেট টেবিল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, পশ্চিমবঙ্গ বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সচিব, পশ্চিমবঙ্গ হ্যান্ডবল সংস্থার সভাপতি, অ্যামেচার কাবাডির সচিব, বডি বিল্ডিং অ্যান্ড ফিজিকস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, ক্যালকাটা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ক্যারাটে অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের মুখ্য উপদেষ্টা।
অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদমর্যাদা:
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপর ভাই অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তিনি আইএফএ (IFA)-র সভাপতি, বেঙ্গল অলিম্পিক সংস্থার মুখ্য উপদেষ্টা এবং পশ্চিমবঙ্গ স্টেট ওয়েটলিফটিং অ্যাসোসিয়েশনের চিফ প্যাট্রন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শুধুই কি পরিবার? তালিকা দীর্ঘ:
তৃণমূল জমানার একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়ক এখনও ক্রীড়া সংস্থাগুলোতে দাপট দেখাচ্ছেন। ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু হকি বেঙ্গল এবং পশ্চিমবঙ্গ জুডো সংস্থার সভাপতি। প্রাক্তন বিধায়ক দেবাশিস কুমার বেঙ্গল অ্যামেচার সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। মেয়র ফিরহাদ হাকিম ভলিবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই আইএফএ-র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী রায়ে জনতা পরিবর্তনের বার্তা দিলেও ক্রীড়া সংস্থাগুলোর এই ‘জবরদখল’ নব্য সরকারের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন প্রশাসন কবে এই সমস্ত সংস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে পারবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।





