“গোয়ার রক্ত, উরুগুয়ের জার্সি!”-বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত গোলদাতা আরাউজো

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে নতুন ইতিহাস। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে গোল করে তাক লাগিয়ে দিলেন উরুগুয়ের উইঙ্গার মেক্সিমিলিনো আরাউজো। মিয়ামিতে সৌদি আরবের বিপক্ষে গ্রুপ H-এর উদ্বোধনী ম্যাচে তাঁর করা ৮০ মিনিটের গোলটি শুধু উরুগুয়েকে হার থেকে বাঁচাল না, বরং জুড়ে দিল ভারতের নাম। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র হয়।

কে এই মেক্সিমিলিনো?

২৬ বছর বয়সী এই তারকার শিকড় জড়িয়ে রয়েছে ভারতের গোয়ায়। তাঁর দাদু রেদুয়ালদো আরাউজো দক্ষিণ গোয়ার লুটোলিম গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। উন্নত জীবনের আশায় তিনি গোয়া ছেড়ে অ্যাঙ্গোলা ও ব্রাজিল হয়ে শেষ পর্যন্ত উরুগুয়ের রিভেরাতে থিতু হন। সেই মাটি থেকেই উঠে এলেন এই ফুটবল বিস্ময়। উল্লেখ্য, লুটোলিম গ্রাম প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট মারিও মিরান্ডার জন্মস্থান হিসেবেও পরিচিত।

ম্যাচের প্রেক্ষাপট:

১৫ জুন ২০২৬, ম্যাচের ৪১ মিনিটে আবদুল্লাহ আল-আমরির গোলে এগিয়ে গিয়েছিল সৌদি আরব। উরুগুয়ে গোটা ম্যাচে দাপট দেখালেও গোল পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচে উরুগুয়ে ২৮টি শট নেয়, যার মধ্যে ২২টি শট ছিল দ্বিতীয়ার্ধের। এটি ১৯৭৪ সালের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো দলের এক অর্ধে সর্বোচ্চ শটের রেকর্ড। সৌদি গোলরক্ষক মহম্মদ আল-ওয়াইস পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তবে ৮০ মিনিটে বক্সের ভেতর রিবাউন্ড থেকে বাঁ-পায়ের নিখুঁত শটে গোল করে সমতা ফেরান আরাউজো।

ভারতীয় ফুটবলের নতুন অনুপ্রেরণা:

স্পোর্টিং সিপির এই উইঙ্গার ২০২৩ সালে উরুগুয়ে দলে অভিষেকের পর থেকেই ধারাবাহিক পারফর্মার। ২০২৪ কোপা আমেরিকায় ৬ ম্যাচে ২ গোলের পর বিশ্বকাপের মঞ্চেও নিজের জাত চেনালেন তিনি। ১৯৩৬ সালে মহম্মদ সেলিমের সেল্টিক ক্লাবে খেলার পর, আজ বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল করে আরাউজো যা করলেন, তা ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক।

গোয়ার ফুটবলপ্রেমী থেকে শুরু করে ভারতের অগণিত ফুটবলভক্তের কাছে আরাউজোর এই সাফল্য এক নতুন স্বপ্নের নাম। তিনি প্রমাণ করলেন, ভারতীয় বংশোদ্ভূতরাও বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াতে পারেন। উরুগুয়ের জার্সি গায়ে আরাউজোর এই ‘পায়ের জাদু’ আগামী দিনে অনেক ভারতীয় কিশোরকে ফুটবলার হওয়ার সাহস জোগাবে।