“কোন মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চান?” যুবভারতী কাণ্ডে মমতার পক্ষ নিয়ে বিরোধীদের তুলোধনা অভিষেকের

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসি-উন্মাদনার মাঝেই ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার জেরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এবার এই ইস্যুতে মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানালেন, “অতিরিক্ত উৎসাহ, আদিখ্যেতা কিংবা আয়োজকদের গাফিলতি”—সব মিলিয়েই বাংলার ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক স্তরে ধাক্কা খেয়েছে।

কাদের দিকে আঙুল তুললেন অভিষেক? স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলার দায় নিয়ে কাউকেই রেয়াত করেননি অভিষেক। তাঁর মতে, একাংশের “অতি-উৎসাহ” যেমন দায়ী, তেমনই পুলিশের দিক থেকেও কিছুটা শিথিলতা ছিল। তিনি স্পষ্ট বলেন, “ঘটনার পরদিনই পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ইস্তফা মুখ্যমন্ত্রী গ্রহণ করেছেন।”

মমতার ভূমিকার প্রশংসা: ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত নেই দাবি করে অভিষেক বলেন, “ঘটনার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষমা চেয়েছেন। দেশের অনেক রাজ্যে পদপিষ্ট হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, কিন্তু কোনো মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবে ক্ষমা চাইতে দেখা যায় না। মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে প্রশাসনে ভুল ছিল।”

প্রভাবশালীদের আচরণে ক্ষোভ: বাংলার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির আচরণ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক জানান, কয়েকজনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় বাংলার মাথা হেঁট হয়েছে। বিশেষ করে দর্শকদের ক্ষোভের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তিনি বলেন, “মেসি সময়ের আগে চলে গেছেন, দর্শকদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। যাঁরা টাকা দিয়ে টিকিট কেটে নিরাশ হয়েছেন, তাঁদের ক্ষোভ স্বাভাবিক। এর জবাবদিহি আয়োজকদের করতেই হবে।”

রাজনীতি করার বিরুদ্ধে বার্তা: যুবভারতী কাণ্ড নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ করে তাঁর বক্তব্য, “ফুটবলের মক্কা-মদিনা হলো বাংলা। এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করলে আসলে বাংলাকেই ছোট করা হয়।” তদন্ত চলছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সরকার সেদিকে কড়া নজর রাখছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।