ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের শীতলতা ও আন্তর্জাতিক শুল্কের খাঁড়া! অস্তিত্বের সংকটে সুন্দরবনের শুঁটকি শিল্প

শীতের শুরুতেই যখন সুন্দরবনের উপকূলে শুঁটকি মাছ শুকানোর তোড়জোড় তুঙ্গে থাকার কথা, তখনই একরাশ হতাশা ঘিরে ধরেছে মৎস্যজীবীদের। সামুদ্রিক মাছের আকাল তো ছিলই, তার ওপর এবার যুক্ত হয়েছে রপ্তানির গুরুতর সমস্যা। ভারত ও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিদেশের বাজারে চড়া আমদানি শুল্কের চাপে কার্যত দিশেহারা কয়েক লক্ষ মানুষ।

রপ্তানির পথে ৩টি বড় বাধা: ১. বাংলাদেশ সীমান্ত বন্ধ: শুঁটকি মাছের সবথেকে বড় বাজার হলো বাংলাদেশ। স্থানীয় ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান খান জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কারণে মাছ পাঠানো যাচ্ছে না। এই পথ বন্ধ হওয়ায় চিন-সহ অন্যান্য দেশেও রপ্তানি বাধা পাচ্ছে। ২. আমেরিকা ও মেক্সিকোর শুল্ক: আমেরিকা আগেই ভারতীয় পণ্যে শুল্ক চাপিয়েছিল। এবার নতুন করে মেক্সিকোও শুল্ক বৃদ্ধি করায় আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় শুঁটকির দাম বেড়ে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। ৩. পরিবহণ ও লজিস্টিক সমস্যা: বর্তমানে শ্রীলঙ্কা ও চিনে খুব অল্প পরিমাণে মাছ পাঠানো গেলেও তা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সীমান্ত বাণিজ্য স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের জীবিকা বিপন্ন: সুন্দরবনের শুঁটকি শিল্পের সঙ্গে প্রায় ৩.৫ লক্ষ মানুষের রুটিরুজি জড়িয়ে রয়েছে। নদী থেকে মাছ ধরা, চাতালে রোদে শুকানো, প্যাকেজিং এবং পরিবহণ—এই গোটা শৃঙ্খলটি এখন ভাঙার মুখে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এই মরসুমে বিপুল লোকসান হলে আগামী বছর বহু মানুষ এই ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।

২০২৫-এর সোনার বাজার ও মুদ্রার প্রভাব: উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে একদিকে যেমন সোনার দাম ১.৩৫ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে এবং ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার অস্থিরতা চলছে, তার মাঝে এই রপ্তানি বন্ধ হওয়া উপকূলীয় অর্থনীতিতে বড়সড় আঘাত হানছে।

বিশেষজ্ঞদের মত: যদি দ্রুত কূটনৈতিক স্তরে বাণিজ্যিক জট না কাটে এবং বিকল্প বাজারের সন্ধান না মেলে, তবে সুন্দরবনের এই ঐতিহ্যবাহী লোকজ শিল্পটি অচিরেই হারিয়ে যেতে পারে। মৎস্যজীবীরা সরকারের কাছে এই বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।