নবাবী মেজাজে করিশ্মা! ৫২-তে পা দিয়ে নিজের হাতে সাজানো স্বপ্নের অন্দরমহল দেখালেন ‘লোলো’

নব্বইয়ের দশকের পর্দা কাঁপানো স্টাইল আইকন করিশ্মা কাপুর। অভিনয় দক্ষতা থেকে শুরু করে ফ্যাশন স্টেটমেন্ট—সবকিছুতেই তিনি আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আজ তাঁর ৫২তম জন্মদিন। একদিকে যেমন তাঁর নতুন প্রজেক্ট ‘ব্রাউন’-এর সাফল্য ঘিরে ভক্তদের উচ্ছ্বাস, তেমনই অন্যদিকে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও রাজকীয় লাইফস্টাইল নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। জন্মদিনের এই বিশেষ মুহূর্তে ভক্তদের জন্য করিশ্মা খুলে দিলেন তাঁর মুম্বইয়ের বিলাসবহুল অন্দরমহলের দরজা। করিশ্মার বাড়িটি কেবল ইটের গাঁথুনি নয়, বরং নিজের হাতে সাজানো এক টুকরো স্বপ্ন।
আরামের ব্যালকনি:
করিশ্মার বাড়ির ব্যালকনি যেন এক শান্তির নীড়। ব্যস্ততার মাঝে অভিনেত্রী এই জায়গাটিকেই বেছে নেন রিফ্রেশমেন্টের জন্য। কাঠের চেয়ার-টেবিল ও স্নিগ্ধ পরিবেশের এই ব্যালকনিতে বসে চা খেতে তিনি ভালোবাসেন। দিনের ক্লান্তি শেষে এই খোলা ব্যালকনি তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় জায়গা।
সবুজের ছোঁয়া:
বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের যান্ত্রিকতার মাঝেও প্রকৃতিকে কাছে পেতে ভালোবাসেন করিশ্মা। তাই তাঁর বাড়ির প্রতিটি কোণায় রয়েছে সবুজের ছোঁয়া। বিভিন্ন ধরণের ইনডোর প্ল্যান্ট ও সুন্দর সুন্দর প্ল্যান্টার দিয়ে তিনি অন্দরমহলকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যে, প্রবেশ করলেই একটা তাজা ও সতেজ অনুভূতি পাওয়া যায়। তাঁর এই রুচিশীল সজ্জা বাড়ির অন্দরে এক শান্ত আবহ তৈরি করে।
ইন্টেরিয়রের অনন্য কারুকার্য:
করিশ্মার বাড়ির সিঁড়ি সাধারণ নয়, এটি আধুনিক ও ক্লাসিক ডিজাইনের এক অনন্য মেলবন্ধন। কাঠের কাজের উষ্ণতা বাড়িটিকে দিয়েছে এক দারুণ আরামদায়ক লুক। শুধু সিঁড়ি নয়, তাঁর বাড়ির দেওয়ালে থাকা কাঠের প্যানেল আর তার সঙ্গে পালিশ করা মেঝের সংমিশ্রণ বাড়িটিকে দিয়েছে এক অভিজাত ও ‘ক্লাসি’ রূপ। করিশ্মা পছন্দ করেন হালকা রঙের পর্দার ব্যবহার, যা ঘরের ভেতর প্রাকৃতিক আলো ছড়াতে সাহায্য করে।
আর্ট ও নান্দনিকতা:
অভিনেত্রী খুব একটা জাঁকজমকপূর্ণ সাজে বিশ্বাসী নন। বাড়ির দেওয়ালে বড় বড় আর্ট ফ্রেম এবং অল্প কিছু শৌখিন জিনিসের ব্যবহারে তিনি তাঁর শৈল্পিক মনের পরিচয় দিয়েছেন। বড় বড় জানলা দিয়ে আসা আলো-বাতাস পুরো বাড়িটিকে এক মায়াবী রূপ দেয়। করিশ্মার এই ঘরোয়া সাজসজ্জা যেন তাঁর ব্যক্তিত্বরই প্রতিফলন— মার্জিত, আধুনিক এবং অত্যন্ত আরামদায়ক। ৫২ বছর বয়সেও করিশ্মা যেভাবে নিজেকে ফিট রেখেছেন এবং নিজের জগতকে গুছিয়ে রেখেছেন, তা অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণা।