“কোটিপতি শিক্ষামন্ত্রী”-জেনেনিন কত কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক ধর্মেন্দ্র প্রধান?

দেশজুড়ে NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস-কাণ্ড এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে চলা লাগাতার আন্দোলনের জেরে বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনকারীদের একাংশ তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হওয়ায় নেটদুনিয়ায় তাঁকে নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে, দেশের শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা কেমন? ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া তাঁর নিজস্ব হলফনামা থেকেই তাঁর মোট সম্পত্তি ও আয়ের সঠিক হিসাব সামনে এসেছে।

বার্ষিক আয় ও মোট সম্পদ

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, ধর্মেন্দ্র প্রধানের আর্থিক অবস্থার মূল বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

  • বার্ষিক আয়: ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ১২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী মৃদুলা ঠাকুর প্রধানের ওই একই অর্থবর্ষে বার্ষিক আয় ছিল তার থেকে অনেকটাই বেশি—প্রায় ৪৯ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা।

  • নগদ অর্থ: শিক্ষামন্ত্রীর কাছে নগদ ছিল মাত্র ৩৫ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রীর কাছে ছিল ৪০ হাজার টাকা এবং দুই সন্তানের কাছে যথাক্রমে ১০ হাজার ও ৭ হাজার টাকা নগদ ছিল। সবমিলিয়ে পুরো পরিবারের হাতে নগদ টাকার পরিমাণ ছিল মাত্র ৯৭ হাজার টাকা।

  • মোট সম্পত্তি: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষিত মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা

ব্যাঙ্ক আমানত, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ

নির্বাচনী নথিপত্র অনুসারে, ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং তাঁর পরিবারের নামে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF), ফিক্সড ডিপোজিট (FD) এবং অন্যান্য ক্ষেত্র মিলিয়ে মোট সঞ্চয়ের পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা

  • মিউচুয়াল ফান্ড: মিউচুয়াল ফান্ডেও তিনি মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ করে রেখেছেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮০ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।

  • বিমা পলিসি: ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁর নামে মোট ৬৭ লক্ষ ৭২ হাজার টাকার বিভিন্ন বিমা পলিসি রয়েছে।

ঋণ ও দেনার খতিয়ান

ধর্মেন্দ্র প্রধানের নামে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক এবং আইডিবিআই ব্যাঙ্ক মিলিয়ে মোট ৩১ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকার ঋণ রয়েছে। পাশাপাশি, তিনি ব্যক্তিগত স্তরেও বেশ কিছু ঋণ দিয়েছেন:

  • স্ত্রীকে দিয়েছেন ১০ লক্ষ টাকা।

  • নিজের বাবা দেবেন্দ্র প্রধানকে দিয়েছেন ৫ লক্ষ টাকা।

  • শ্যালিকা মাধুরী ঠাকুরকে ৫ লক্ষ টাকা এবং আত্মীয় মঞ্জুরী ঠাকুরকে ২ লক্ষ টাকা ঋণ দিয়েছেন।

সবমিলিয়ে তাঁর দেওয়া ব্যক্তিগত ঋণের পরিমাণ ২২ লক্ষ টাকা। আর ব্যাংক ও অন্যান্য দিক মিলিয়ে তাঁর মোট দেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩.৩৮ লক্ষ টাকায়।

জমি-জমা, আবাসন ও গাড়ি

  • জমি ও বাড়ি: ওডিশায় তাঁর ১২ লক্ষ টাকার কৃষিজমি এবং ২০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার অন্যান্য জমি রয়েছে। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীর যৌথ নামে প্রায় ১.৯৮ কোটি টাকার আবাসন বা ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের ইন্দিরাপুরমে একটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং ওডিশার ভুবনেশ্বরে একটি বসতবাড়ি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

  • গাড়ি: ধর্মেন্দ্র প্রধানের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ২০১১ মডেলের একটি ‘হোন্ডা সিটি’ গাড়ি রয়েছে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর নামে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক গাড়ি রয়েছে।

  • সোনাদানা ও গয়না: ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ২০০ গ্রাম সোনা এবং ২.৫ কেজি রূপো ছিল, যার তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১৩.৫ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি, তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫০০ গ্রাম সোনা এবং ১০ কেজি রূপো, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া তাঁদের পরিবারের কাছে প্রায় ৬ লক্ষ টাকার গৃহস্থালি ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী (যার মধ্যে ২ লক্ষ টাকার কম্পিউটার ও ৪ লক্ষ টাকার হোম অ্যাপ্লায়েন্স রয়েছে) ঘোষণা করা হয়েছে।