কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের? ভোটের বলি ঘিরে অগ্নিগর্ভ বাংলা, তোপ অভিষেকের!

দ্বিতীয় দফার ভোট মিটলেও রক্তের দাগ এবং অভিযোগের পাহাড় পিছু ছাড়ল না বাংলার। ভোট দিয়ে ফেরার পথেই হাওড়ার বলরামপুরে এক বৃদ্ধ ভোটারের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর অমানবিক ধাক্কাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ওই বৃদ্ধ। অন্যদিকে, এই মৃত্যুকে প্রাকৃতিক বা শারীরিক সমস্যা বলে দাবি করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘শকুনের রাজনীতির’ অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।

মৃতের নাম নীলমণি দলুই (৮০)। তাঁর পরিবারের দাবি, ৮২ বছর বয়সেও নীলমণি বাবু সুস্থ ছিলেন। চোখে ভালো দেখতেন, বড় কোনও অসুখ ছিল না। তাঁর ছেলে তরণী দলুই জানান, বুথ ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও জওয়ানদের সঙ্গে কোনও কারণে কথা কাটাকাটি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, ভোট দিতে দেরি হওয়ায় জওয়ানরা তাঁকে ধাক্কা মারে এবং মাটিতে পড়ে গিয়েই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় গর্জে উঠেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছেন।

বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা পালটা আক্রমণে জানিয়েছেন, “তৃণমূলের নজর সবসময় ভাগাড়ের দিকে থাকে। হৃদযন্ত্রের সমস্যা বা বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু হতেই পারে, কিন্তু তাকে রাজনীতিতে টেনে আনা অমানবিক।” ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতের পরিবার।

ভোটের উত্তাপের আঁচ পৌঁছেছে বেহালার পর্ণশ্রীতেও। সেখানে দুই আরএসএস (RSS) কর্মীকে মারধর ও তাঁদের বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সংঘর্ষে অভিজিৎ ব্রহ্ম নামে এক কর্মীর মাথা ফেটে যায়। আক্রান্তদের অভিযোগ, রক্তাক্ত অবস্থায় থানায় সাহায্য চাইতে গেলে পুলিশ চিকিৎসার বদলে উলটে তাঁদেরই ৫ জনকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। ভোটের শান্ত আবহের আড়ালে এই হিংসা ও মৃত্যুর তরজা এখন বাংলার প্রধান চর্চার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy