দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস গড়ল মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা। স্বাধীনতার পর এই প্রথম রাজ্যের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলেন এই বিধানসভার কোনো প্রতিনিধি। নবগঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির দু’বারের বিধায়ক আনন্দময় বর্মন। গত বিধানসভা নির্বাচনে ১ লক্ষ ৬ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে বিপুল জয়ী আনন্দময় বর্মনের এই মন্ত্রীত্বপ্রাপ্তি যেন দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে নতুন আশা জাগাল এলাকার বাসিন্দাদের মনে।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আনন্দময় বর্মন তাঁর প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের জায়গাগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভাকে আধুনিক এবং পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তোলাই আমার প্রধান লক্ষ্য। শিলিগুড়ি পুরনিগমের সঙ্গে এলাকাটিকে যুক্ত করা অথবা একটি স্বতন্ত্র নতুন পুরসভা গঠন করার লক্ষ্যে আমি দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে আসছি। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার নিরিখে এলাকার উন্নত নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতি দমনে মন্ত্রী আনন্দময় বর্মন অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “রাজনীতি মানেই জনসেবা। কাজের ক্ষেত্রে আমি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। এলাকাবাসী যে বিপুল ভরসা আমাকে দিয়েছেন, তার মর্যাদা রক্ষা করাই আমার নৈতিক দায়িত্ব। দফতরে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা ‘কাটমানি’ সংস্কৃতিকে আমি বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেব না। সাধারণ মানুষের কাজ যাতে কোনোভাবেই আটকে না থাকে, তা নিশ্চিত করাই আমার অঙ্গীকার।”
আনন্দময় বর্মনের এই দায়িত্বপ্রাপ্তিতে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার বাসিন্দা ও সমাজকর্মী সন্তোষ জানা বলেন, “আনন্দময়বাবু বরাবরই শান্ত ও স্বল্পভাষী ব্যক্তিত্ব। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের প্রতি তাঁর এই প্রতিশ্রুতি আমাদের প্রত্যাশা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মাটিগাড়া এলাকা যেভাবে দ্রুত শিল্প ও নগরায়ণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে একটি পুরসভার অধীনে আসা একান্ত প্রয়োজন। উনি মন্ত্রী হওয়ায় সেই কাজগুলো ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী জীবন পোদ্দার বলেন, “আমরা এমন একজন প্রতিনিধি চেয়েছিলাম যিনি সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করেন। দুর্নীতি ও কাটমানির বিরুদ্ধে তাঁর এই দৃঢ় অবস্থান সাধারণ মানুষের মনে সাহস জোগাবে। সুখ-দুঃখের প্রতিটি মুহূর্তে আমরা তাঁকে পাশে পেয়েছি।” রাজনীতিতে অমায়িক ব্যবহার, সাধারণ জীবনযাপন এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির জন্য পরিচিত আনন্দময় বর্মন দলের অন্দরে ও বাইরে সমানভাবে সমাদৃত। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় বিধায়ক মন্ত্রী হওয়ার ফলে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
এখন নজর এখন মন্ত্রী আনন্দময় বর্মনের দিকে। আধুনিকীকরণ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি তিনি কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত করতে পারেন, তা দেখার অপেক্ষায় গোটা মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি। নতুন দায়িত্ব বুঝে নিয়েই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের স্বপ্ন দেখছেন বিধানসভার মানুষ।





