কাঁচা পাতার কম দাম নিয়ে আক্ষেপ দূর! সরাসরি বিদেশের বাজারে চা পাঠাতে চুক্তি ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির, কৃষক কীভাবে হবেন লাভবান?

উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা চাষিদের উৎপাদিত চা এবার সরাসরি বিক্রি হবে বিদেশের বাজারে। জলপাইগুড়ির ছোট ছোট চা চাষিদের উৎপাদিত চায়ের মান বজায় রেখে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নামী-দামি সংস্থার চায়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে এমনই এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিল ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতি। এই উদ্যোগের ফলে কৃষকরা বিদেশে মোটা দামে চা বিক্রি করে লাভের মুখ দেখবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্ষুদ্র চা চাষিদের উৎপাদিত চায়ের মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিং করার জন্য হাত মিলিয়েছে ইংল্যান্ডের একটি সংস্থা। এই সংস্থার সহায়তায় চা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হবে।

কর্মশালা থেকে আন্তর্জাতিক বাজারজাতকরণের পথ
জলপাইগুড়ির ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত চায়ের মার্কেটিং এবং কীভাবে তা বিদেশের বাজারে বাজারজাত করা যায়, সেই বিষয়ে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির জেলা সম্পাদক বিজয় গোপাল চক্রবর্তী জানান,

“ইংল্যান্ডের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চা ছাড়াও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য নিয়ে কাজ করে। আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করছি। ক্ষুদ্র চা চাষিদের কী কী সমস্যা, তাঁদের উৎপাদিত চা কোথায় কোথায় বিক্রি করা যায়, এই বিষয়গুলি নিয়ে কর্মশালায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।”

সংস্থার কর্তারা জলপাইগুড়িতে একটি পাইলট প্রজেক্ট শুরু করেছেন। তাঁরা বিদেশের চায়ের বাজারে এই চায়ের ব্র্যান্ডিং করতে চান।

মূল সমস্যা সমাধান: প্যাকেজিং ও দাম
বিজয় গোপাল চক্রবর্তীর আক্ষেপ, “সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আমরা কাঁচা পাতার ন্যায্য দাম পাই না।” তাঁর মতে, এই বিদেশি সংস্থা যদি ফ্যাক্টরি তৈরি করে, তবে উৎপাদিত চা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করার পথ তৈরি হবে। বর্তমানে চা প্যাকেটিং, ব্র্যান্ডিং এবং দেশের বাইরে সরাসরি না পাঠানোর কারণে মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে চা বিদেশে যাচ্ছে এবং চাষিরা লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না।

ইংল্যান্ডের এই সংস্থা ক্ষুদ্র চাষিদের সেই প্যাকেটিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে।

পরিবেশবান্ধব হ্যান্ডমেড চায়ের স্বপ্ন
সমিতির লক্ষ্য, তাঁরা উন্নত মানের, পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ চা তৈরি করে বিদেশে পাঠাবেন। বিজয় গোপাল চক্রবর্তী জানান, তাঁরা কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়া চা উৎপাদন করতে চাইছেন এবং বর্তমানে হ্যান্ড মেড টি তৈরি করছেন।

তিনি আশাবাদী, ইংল্যান্ডের বাজারে এই হাতে তৈরি চায়ের চাহিদা আছে। এই নতুন চুক্তির ফলে তাঁরা সরাসরি নিজেদের চা প্যাকেটিং ও ব্র্যান্ডিং করে বিদেশের মাটিতে পাঠাতে পারবেন এবং নিজেদের ন্যায্য পাওনা বুঝে নিতে পারবেন।