পূর্ব বর্ধমানে ভোটের আগে চরম অস্বস্তি! শুভেন্দু সভায় যাবেন না বিজেপি কর্মীরা, কেন জেলা সভাপতি স্মৃতিকণা বসুর ওপর এত ক্ষুব্ধ নেতারা?

ভোট যত এগিয়ে আসছে, বঙ্গ বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ততই প্রকাশ্যে আসছে। এবার পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া সাংগঠনিক জেলায় যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে দলের উচ্চ নেতৃত্ব। বিশেষত, মেমারির পাগলা এলাকায় শুভেন্দু অধিকারীর জনসভার ঠিক আগেই এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ‘বিস্ফোরণ’ হলো। নব নির্বাচিত জেলা সভাপতি স্মৃতিকণা বসুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা জানিয়েছেন, তাঁরা শুভেন্দু অধিকারীর জনসভাতেই যাবেন না।
ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে স্মৃতিকণা
জানা গিয়েছে, সমস্ত ক্ষোভের মূলে রয়েছেন নবনির্বাচিত জেলা সভাপতি স্মৃতিকণা বসু। গোপাল চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই এই সমস্যার সূত্রপাত। অভিযোগ, তাঁর কার্যকালে একের পর এক আদি বিজেপি নেতা জেলা কমিটি থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন।
এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮ জন বিজেপি নেতা জেলা কমিটি ছেড়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন জামালপুর বিধানসভার এবং বাকি তিনজন মেমারি, পূর্বস্থলী ও কাটোয়া বিধানসভা এলাকার।
‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ বনাম ‘তৃণমূল যোগ’
এদিন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপি নেতা ও জৌগ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য জগবন্ধু ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জামালপুরসহ কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার অসংখ্য বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মী শুভেন্দু অধিকারীর সভায় যাবেন না।
তাঁর অভিযোগ, স্মৃতিকণা বসু সেই সব নেতাদের জেলা কমিটিতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন, যাঁরা সংগঠনকে শক্তিশালী করতে চান না এবং তাঁদের ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জগবন্ধু ঘোষের আরও গুরুতর অভিযোগ,
“রাজ্যের শাসক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে বিজেপির জেলা সভাপতি স্মৃতিকণা বসু এই খেলা খেলছেন। স্মৃতিকণা বসু জেলা সভাপতি হওয়ার দশ দিন পর তাঁকে কোনও কিছু না জানিয়ে তিনি তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের পাশে নিয়েই ঘুরছেন।”
বিধানসভা নির্বাচনের আগে জেলা বিজেপির অন্দরে এমন কোন্দল শুরু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল শিবির বেজায় খুশি। তবে এই বিদ্রোহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কীভাবে সামাল দেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।