আলাপচারিতা, সোশ্যাল মিডিয়া ও মসজিদ! জইশ-ই-মহম্মদ মডিউল গড়তে ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গিদের কীভাবে ব্রেনওয়াশ করতেন মৌলভী ইরফান?

দিল্লির লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত যত গভীরে যাচ্ছে, ততই উঠে আসছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই হামলার নেপথ্যে ছিল একটি ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গি মডিউল, যার মূল কারিগর জম্মু–কাশ্মীরের মৌলভী ইরফান আহমেদ। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, এই শিক্ষিত এবং পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত যুবকদের দেখে সাধারণ মানুষ বিন্দুমাত্র সন্দেহ করবে না যে তাঁরা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।

ইরফানের প্রধান কাজ ছিল শিক্ষিত, পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত যুবকদের টার্গেট করে জিহাদি ভাবধারায় প্রভাবিত করা এবং তাঁদের পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) সঙ্গে যুক্ত করা।

ডাক্তার মডিউলের সূচনা
ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তারদের নিয়ে যে গোপন মডিউল তৈরি হয়েছিল, তার সূচনাও করেন ইরফান। এই নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য তিনি প্রথম যোগাযোগ করেন চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলের সঙ্গে। প্রথমে রোগী-চিকিৎসকের সম্পর্ক তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে ইরফান মুজাম্মিলকে নিজের দলে টেনে নেন।

তদন্তে জানা গেছে, ইরফান অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তিনটি কৌশল ব্যবহার করে সম্ভাব্য সদস্য বাছাই করতেন:

১. আলাপচারিতা (Casual Conversation): ইরফান প্রথমে অচেনা লোকদের সঙ্গে সহজ আলাপচারিতা শুরু করতেন। কথার ফাঁকে বুঝে নিতেন, সামনে থাকা ব্যক্তি ধর্মীয় আলোচনা বা মতাদর্শে কতটা আগ্রহী। যদি কেউ ইতিবাচক সাড়া দিত, তাহলে তিনি ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাঁকে সংগঠনে যুক্ত করতেন।

২. সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণ (Digital Surveillance): সোশ্যাল মিডিয়া ছিল তাঁর সদস্য সংগ্রহের অন্যতম হাতিয়ার। ইরফান নিয়মিত ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম ঘেঁটে দেখতেন— কে কী ধরনের পোস্ট করছে। কারও মধ্যে আলাদা মতাদর্শ বা একা হয়ে পড়ার মতো ভাব দেখা গেলেই তিনি তাঁকে সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে ধরতেন। এরপর সেই ব্যক্তিকে ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধর্মীয় কন্টেন্ট পাঠিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন। এইভাবেই তিনি আদিল আহমদ রাথরকে নিজের দলে টেনেছিলেন।

৩. মসজিদে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের খোঁজ (Mosque Monitoring): মসজিদে কারা নিয়মিত নামাজ পড়তে আসেন এবং ধর্মীয় ক্ষেত্রে কারা বেশি সক্রিয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতেন ইরফান। কথোপকথনের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতেন। এই কৌশলেই জাসির বিলাল ওয়ানিকে দলে আনা হয়।

তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, এই মডিউলের প্রত্যেকেই সুনির্দিষ্ট দায়িত্বে ছিল— লজিস্টিক, বোমা তৈরি, সদস্য সংগ্রহ। সবারই চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল জঙ্গি হামলা চালানো। পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের হ্যান্ডলার হানজুল্লার সঙ্গেও ইরফানের যোগাযোগ ছিল বলে জানা গেছে।