বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু—৬, মুরলীধর সেন লেন। এই ঠিকানাই দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিজেপির রাজ্য কার্যালয় হিসেবে পরিচিত। তবে এবার খবর পাওয়া যাচ্ছে, এই ঐতিহাসিক ভবনটিকে খুব শীঘ্রই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও আদর্শের ওপর ভিত্তি করে একটি অত্যাধুনিক মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা করছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে এমনটাই জানা গেছে।
বিজেপির এই সদর দপ্তরটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক ঐতিহাসিক স্মৃতি। জানা যায়, ১৯৫০-এর দশকে ভারতীয় জনসংঘের সময় থেকেই এই ভবনটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠে। ভারতীয় রাজনীতির কিংবদন্তি ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অটল বিহারী বাজপেয়ী কিংবা লালকৃষ্ণ আডবাণীর মতো নেতারা এই ভবনেই দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনার রূপরেখা তৈরি করেছেন। ১৯৫১ সালে ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই ভবনটি পার্টির কলকাতা অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এমনকি ১৯৮০ সালে বিজেপি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও এই ঠিকানাটি সংগঠনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেই কাজ করে চলেছে।
বিজেপি নেতৃত্বের মতে, এই ভবনটি কেবল একটি অফিস নয়, এটি বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উত্তরাধিকারকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য এই ভবনটির চেয়ে উপযুক্ত জায়গা আর কিছু হতে পারে না। প্রস্তাবিত এই মিউজিয়ামে শ্যামাপ্রসাদের জীবন, তাঁর রাজনৈতিক সফর, আদর্শগত অবদান এবং আধুনিক ভারতীয় রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা বিশদভাবে প্রদর্শন করা হবে। মিউজিয়ামটির মূল উদ্দেশ্য হবে এই ঐতিহাসিক ভবনটির ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা এবং দর্শনার্থীদের শ্যামাপ্রসাদের চিন্তাধারার সঙ্গে পরিচিত করা।
শোনা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একটি বিশাল মূর্তি স্থাপনের কথাও ভাবছে দল। তবে মুরলীধর সেন লেনের অফিসকে মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করার বিষয়টি দলের কাছে অনেক বেশি আবেগপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই ভবনটির সঙ্গে সরাসরি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সংযোগ রয়েছে। এক প্রবীণ বিজেপি নেতার কথায়, “এই বিল্ডিংয়ে শ্যামাপ্রসাদের ইতিহাস ও উত্তরাধিকার জড়িয়ে আছে। যারা এখানে আসবেন, তারা ওনার জীবন ও অবদান সম্পর্কে গভীরভাবে জানার সুযোগ পাবেন।”
দলীয় নেতাদের মতে, এত বছর ধরে বাংলায় শ্যামাপ্রসাদের উত্তরাধিকারকে সঠিকভাবে তুলে ধরার মতো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জায়গা ছিল না। প্রস্তাবিত এই মিউজিয়াম সেই দীর্ঘদিনের অভাব পূরণ করবে এবং একইসঙ্গে রাজনৈতিক আদর্শের এক গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ডমার্ককে সংরক্ষণ করবে। যদি এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বিজেপির জন্য বাংলার সংগঠনের গৌরবময় অতীতকে ধরে রাখার এক বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে।





