কলকাতায় এল ‘যাত্রী সাথী’র এসি শাটল বাস, মাত্র ৩৯ টাকায় মিলবে মেট্রোর আরাম! জানুন রুটগুলি

অনলাইন ক্যাব-বুকিং প্ল্যাটফর্ম ‘যাত্রী সাথী’ এবার কলকাতার নিত্যযাত্রীদের জন্য এক যুগান্তকারী ও দুর্দান্ত পরিষেবা নিয়ে হাজির হলো। ট্রাফিক জ্যাম ও অতিরিক্ত ক্যাব ভাড়ার ঝক্কি এড়িয়ে যাত্রীরা এখন আরও কম খরচে এবং সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে আরামদায়ক যাতায়াত করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছে রাজ্য পরিবহণ দফতর। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সল্টলেক এবং নিউটাউনের সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ শহরতলির সংযোগকারী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে ইতিমধ্যেই এই নতুন এসি শাটল বাস পরিষেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিদিনের অফিস যাত্রী এবং তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি (IT) কর্মীদের যাতায়াতের কথা মাথায় রেখেই এই সমস্ত রুটের সুনির্দিষ্ট বিন্যাস করা হয়েছে।

পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গেছে, এই এসি শাটল বাসগুলি প্রধানত সেক্টর ফাইভ থেকে বালি, ব্যারাকপুর এবং শ্রীরামপুর পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করবে। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থেকে সরাসরি নিউটাউন যাওয়ার সুবিধাযুক্ত বাসও এই বহরে যুক্ত করা হয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের আর্থিক দিকটি বিবেচনা করে এই পরিষেবার প্রথম ট্রিপ বা প্রাথমিক ভাড়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৩৯ টাকা। অন্যদিকে, পরবর্তী নিয়মিত ও দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রার ক্ষেত্রে এসি বাসের সর্বোচ্চ ভাড়া ধার্য করা হয়েছে মাত্র ৬৯ টাকা। অতিরিক্ত ক্যাব ভাড়া বা বাসের অনিশ্চিত সময়ের হাত থেকে নিত্যযাত্রীদের মুক্তি দিতেই এই স্বল্পমূল্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নিরাপদ, আরামদায়ক এবং সাশ্রয়ী মূল্যে যাতে সমস্ত অফিসযাত্রী ও সাধারণ মানুষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই রাজ্য সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ। দূর-দূরান্ত থেকে যাঁরা প্রতিদিন সল্টলেক সেক্টর ফাইভ এবং নিউটাউনের মতো ব্যস্ত কর্মস্থলে যাতায়াত করেন, তাঁদের দৈনন্দিন যাতায়াত আগের চেয়ে অনেক বেশি মসৃণ হবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করছে প্রশাসন। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসেই পরীক্ষামূলকভাবে নির্দিষ্ট কয়েকটি রুটে এই পরিষেবা চালু করা হয়েছিল। সেখানে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া মেলায়, পরবর্তী পর্যায়ে বেহালা এবং গড়িয়ার মতো জনবহুল এলাকায় এই এসি শাটল বাসের পরিধি আরও প্রসারিত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রতিদিন শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, বিশেষ করে সেক্টর ফাইভ বা নিউটাউনে সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে কতটা ভোগান্তির শিকার হতে হয়, তা ক্ষুব্ধ যাত্রামাত্রই জানেন। যদিও ওই নির্দিষ্ট রুটগুলিতে পর্যাপ্ত সরকারি ও বেসরকারি বাস চলাচল করে, তবুও অনেক ক্ষেত্রেই সেইসব বাসের নির্দিষ্ট কোনো সময়সারণী থাকে না। এই পুরনো ও নিত্যদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জনপ্রিয় অ্যাপ ক্যাব সংস্থা উবার ইতিমধ্যেই তাদের শাটল বাস পরিষেবা শুরু করেছে। এবার সেই প্রতিযোগিতায় যুক্ত হলো জনপ্রিয় অ্যাপ ‘যাত্রী সাথী’। এর ফলে আমজনতা অত্যন্ত নামমাত্র খরচে এসি বাসে যাতায়াতের যে সুযোগ পেলেন, তা বলাই বাহুল্য এক বিরাট স্বস্তি।

প্রাথমিক পর্যায়ে মাত্র কয়েকটি রুটে ট্রায়াল রান হিসেবে এসি বাস চালানো হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে ব্যাপক উৎসাহ ও সাড়া মেলায় এই পরিষেবার পরিসর দ্রুত বাড়ানো হয়েছে। বেসরকারি ক্যাবের চড়া দাম বা পিক আওয়ারের অতিরিক্ত ভাড়ার পকেটমারি থেকে নিত্যযাত্রীদের রেহাই দিতেই এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলকাতা ও সংলগ্ন শহরতলির মাঝে মোট চারটি প্রধান রুটে এই শাটল বাসগুলি নিয়মিত চলাচল করবে। রুটগুলি হলো— বালি থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ, ব্যারাকপুর থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ, শ্রীরামপুর থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ এবং সোনারপুর থেকে নিউটাউন।

এছাড়াও যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে গড়িয়া থেকে সায়েন্স সিটি পর্যন্ত বিশেষ রুট রাখা হয়েছে এবং হাওড়া স্টেশন থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্তও শাটল বাস পাওয়া যাবে। আগামী দিনে বেহালা ও গড়িয়া সংলগ্ন অন্যান্য রুটগুলিতেও এই পরিষেবা চালু করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত একটানা ১২ ঘণ্টা এই শাটল বাস পরিষেবা উপভোগ করতে পারবেন যাত্রীরা। বাসের অন্দরে যাত্রী নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মহিলা যাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি বাসে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা ইনস্টল করা হয়েছে। এগুলি জিপিএস (GPS) প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত থাকায় ডেডিকেটেড মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই বাসের রিয়েল-টাইম লাইভ লোকেশন ট্র্যাক করা সম্ভব হবে।