সোশ্যাল মিডিয়ায় রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে ভাইরাল! রাতারাতি সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি হারালেন শান্তিনিকেতনের প্রাক্তনী?

সোশ্যাল মিডিয়ার রঙিন ও অস্থিতিশীল দুনিয়ায় কখন কার ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেবে, তা কেউ বলতে পারে না। ইদানিং অনলাইনের বিভিন্ন দেওয়ালে একটি ভিডিও তুমুল দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন অজস্র নেটিজেন। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওটিতে দেখা গেছে, গায়ে নিরাপত্তারক্ষীর নীল পোশাক জড়িয়ে এক ব্যক্তি অত্যন্ত উদাত্ত ও মায়াবী গলায় গেয়ে চলেছেন বিশ্বকবির অমর সৃষ্টি— ‘শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে…’। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শান্তিনিকেতনের সঙ্গীত ভবনের প্রাক্তন ছাত্র শোভন চক্রবর্তী অভাবের তাড়নায় পেটের টানে এই পেশা বেছে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে তাঁর সেই গান ও জীবনের করুণ গল্প যখন কোটি কোটি মানুষের ওয়ালে ঘুরপাক খাচ্ছে, ঠিক তখনই চরম এক দুঃসংবাদ সামনে এল। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার জেরে হাতছাড়া হয়েছে তাঁর একমাত্র উপার্জনের সেই নিরাপত্তারক্ষীর চাকরিটিও। অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গিয়েছে তাঁর আগামী দিন ও রুটি-রুজির সংস্থান।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শান্তিনিকেতনের সঙ্গীত ভবন থেকে গান শিখে বের হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে ছোটোদের গান শিখিয়েই নিজের সংসার চালাতেন শোভন চক্রবর্তী। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী করোনা পরিস্থিতি এবং পরবর্তী অর্থনৈতিক ধাক্কায় একে একে কমতে থাকে তাঁর ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা। একসময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায় যে টিউশনের আয়ে আর পেট চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে পরিবারের গ্রাস জোগাতে কলকাতার সল্টলেক সেক্টর ফাইফ এলাকার একটি বেসরকারি অফিসে সিকিউরিটি গার্ড বা নিরাপত্তারক্ষীর চাকরি নেন তিনি। গলার সুরে যাঁর ছিল সুরের সাধনা, তাঁকে বাধ্য হয়েই পেটের দায়ে চত্বর পাহারা দেওয়ার কাজ বেছে নিতে হয়। কিন্তু কে জানত, এই সাধারণ রিল ভিডিওটিই তাঁর জীবনে নতুন কোনো বিপর্যয় ডেকে আনবে?
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর গান ভাইরাল হওয়ার পরেই তিনি ওই চাকরি থেকে বরখাস্ত হন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শোভন চক্রবর্তী নিজে জানান যে, গত ২০ জুলাই থেকেই তাঁর ওই চাকরিটি আর নেই। অর্থাৎ প্রায় কুড়ি দিন ধরে তিনি পুরোপুরি বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। সংস্থাই তাঁকে পরোক্ষভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তিনি এই কর্পোরেট সিকিউরিটি কাজের উপযুক্ত নন। যদিও সম্প্রতি ওই সংস্থার এক শীর্ষ কর্তা তাঁকে ফোন করেছিলেন বলে জানা গেছে, কিন্তু শোভন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি আর ওই সংস্থায় ফিরে যাবেন না। বরং সোশ্যাল মিডিয়ার সুবাদে অনেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং নিজেদের সন্তানকে গান শেখানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাই সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে তিনি ফের নিজের পুরোনো এবং ভালোলাগার পেশা— অর্থাৎ গান শেখানোর জগতেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সুবিধাজনক স্থানে গিয়ে বা ছাত্রছাত্রীদের বাড়িতে গিয়ে গান টিউশন করার মাধ্যমেই তিনি ফের নতুন করে জীবন শুরু করতে চান।