শেয়ার বাজারে ধস নামতেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন সাধারণ মানুষ! ১৭,৯১৪ কোটির এই ঝুঁকি কি ফুলেফেঁপে উঠবে?

শেয়ার বাজারে যখন বড় ও ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম হু হু করে নামতে শুরু করে, তখন সাধারণত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও প্যানিকের পরিবেশ তৈরি হয়। কিন্তু গত জুন প্রান্তিকে ভারতের খুচরা বা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এই প্রচলিত ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীতে হেঁটে এক দারুণ চিত্র তুলে ধরেছেন। যখন বাজার বিশেষজ্ঞরা পতন দেখে কপালে হাত ঠেকিয়েছেন, তখন সাধারণ খুচরা বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত না হয়ে উল্টো স্রোতে ভেসে প্রায় ১৭,৯১৪ কোটি টাকার এক বিশাল ও ঝুঁকিপূর্ণ বাজি ধরেছেন। বাজারদর ব্যাপকভাবে কমে যাওয়া সত্ত্বেও তাঁরা ইনফোসিস, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, টিসিএস, উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস এবং আইটিসি-র মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ার অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে মুঠোয় পুরে নিয়েছেন।
বাজারের পরিসংখ্যান এবং বিভিন্ন তথ্য থেকে পরিষ্কার ফুটে উঠেছে যে, প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলো কেনার জন্য সবচেয়ে বেশি হুড়োহুড়ি করেছেন সাধারণ মানুষ। মোট ১৭,৯১৪ কোটি টাকার এই বিশাল বিনিয়োগের মধ্যে কেবল ইনফোসিস, টিসিএস, উইপ্রো এবং এইচসিএল টেক-এই চারটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাতেই প্রায় ১২,২৩০ কোটি টাকা ঢেলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইনফোসিসে সবচেয়ে বেশি ৩,৮৬৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন খুচরা বিনিয়োগকারীরা, যার পরেই রয়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (৩,৭৬৪ কোটি টাকা) এবং টিসিএস (৩,২৯১ কোটি টাকা)। অথচ লক্ষণীয় বিষয় হলো, ওই নির্দিষ্ট জুন ত্রৈমাসিকে এইচসিএল টেক এবং ইনফোসিসের শেয়ারের দাম প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছিল। এমনকি টিসিএস-এর শেয়ারের দাম ১৪ শতাংশ এবং উইপ্রোর দাম ৯ শতাংশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি রিলায়েন্স ও আইটিসি-র শেয়ারের দরও পতন দেখেছিল। তা সত্ত্বেও, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এই দামপতনকে সস্তায় সোনা কেনার মতো এক সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
খুচরা বিনিয়োগকারীদের এই সাহসী কৌশলটি বড় বড় বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী তথা এফআইআই-এর কৌশলের সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছিল। এই পুরো বাজারের খেলার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি হলো, বৃহৎ বিদেশি এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীরা যখন শেয়ারের বোঝা নামাতে বা বিক্রি করতে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই সাধারণ মানুষ দেদারসে সেই একই শেয়ার কিনে নিজেদের পজিশন বাড়িয়ে গেছেন। এর সবথেকে বড় উজ্জ্বল উদাহরণ হলো রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যখন রিলায়েন্সে ২৬,০১১ কোটি টাকার শেয়ার জলের দরে বিক্রি করে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই খুচরা বিনিয়োগকারীরা সেখানে নিজেদের অংশীদারিত্ব আরও বাড়িয়ে তোলেন। উইপ্রোর ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, দেশীয় বিনিয়োগকারী ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলো যখন ১১ হাজার কোটি টাকারও বেশি শেয়ার বিক্রি করে দেয়, তখন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সেখানে ৩,১৫২ কোটি টাকার শেয়ার কিনে নেন। এই বিশেষ সময়ে উইপ্রোতে ৪.০৮ লক্ষ, রিলায়েন্সে ২.২০ লক্ষ এবং ইনফোসিসে ২.০৪ লক্ষ নতুন ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডার যুক্ত হয়েছেন, যা এককথায় অভূতপূর্ব।