কাল সকালেও হাজিরা দেব!’ সিআইডির টানা জেরার মুখে পড়ে কী সাফাই দিলেন সুমিত রায়?

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমানে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে ঘিরে। গত পরপর তিন দিন ধরে প্রতিদিন প্রায় আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ভবানীভবনে সিআইডির ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দুই দিন সুমিত রায়কে জেরা করা হয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের আলোচিত শালবনীর জমি কেলেঙ্কারি মামলায়। এরপর সোমবার তাঁকে তৃতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় পশ্চিম মেদিনীপুরেরই ডেবরায় সংঘটিত চাকরি দুর্নীতি মামলায়। আগামী কাল অর্থাৎ মঙ্গলবারও ডেবরার এই একই মামলায় তাঁকে ফের তলব করেছে সিআইডি। সোমবার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ভবানীভবন থেকে বেরিয়ে আসার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুমিত রায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আদালতের নির্দেশ ও আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানিয়ে তিনি মঙ্গলবারেও তদন্তে সহযোগিতার জন্য নির্দিষ্ট সময়ে হাজিরা দেবেন।
প্রসঙ্গটি শুরু হয়েছিল শালবনীর জমি কেলেঙ্কারি মামলাকে কেন্দ্র করে, যেখানে মেদিনীপুর আদালত তাঁর বিরুদ্ধে কড়া গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এরপর থেকেই দীর্ঘ দুই মাস ধরে পুলিশ ও তদন্তকারী অফিসারদের চোখে ধুলো দিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক। এমনকি তাঁকে ধরতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনেও পুলিশ হানা দিয়েছিল, কিন্তু সুমিতের কোনো সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েও সেখানে কোনো আইনি রক্ষাকবচ পাননি তিনি। অবশেষে তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্ট থেকে স্বস্তিদায়ক রক্ষাকবচ পাওয়ার পরেই তিনি সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হন এবং নিজ থেকেই আইনানুগ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
প্রথম দুই দিন শালবনী জমি দুর্নীতি মামলায় একটানা ম্যারাথন জেরা করার পর সোমবার তাঁকে ডেবরা মামলার তদন্তে মুখোমুখি বসানো হয়। এই চাঞ্চল্যকর চাকরি দুর্নীতি মামলাটিতে মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে ইতিমধ্যেই পুলিশ শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই বেনিয়ম ও দুর্নীতির পুরো চক্রে সুমিত রায় সহ অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঠিক কী ভূমিকা ছিল, তা পরিষ্কার করতেই সিআইডি এই ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে। সোমবার দীর্ঘ জেরা শেষে বাইরে বেরিয়ে আসার সময় সুমিত সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে না চাইলেও নিশ্চিত করেন যে, মঙ্গলবার তাঁকে আবারও তলব করা হয়েছে এবং তিনি তদন্ত প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।
এদিকে, মামলার গুরুত্ব বুঝে সিআইডি উচ্চপদস্থ কর্তারা ইতিমধ্যেই সরাসরি শালবনীতে পৌঁছে গেছেন। জমি কেলেঙ্কারির অন্তর্নিহিত সত্য উদঘাটন করতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন সিআইডি আধিকারিকরা। এই পুরো চাঞ্চল্যকর ঘটনার সুচারু তদন্তের জন্য রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সিট (SIT) বা স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করা হয়েছে, যেখানে অত্যন্ত দক্ষ তিনজন আইপিএস পদমর্যাদার ঊর্ধ্বতন আধিকারিক যুক্ত রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে, এই ঘটনায় ইতিপূর্বেই গ্রেফতার হওয়া সুজয় হাজরাকে মুখোমুখি বসিয়ে সিআইডি আধিকারিকরা জেরা করতে পারেন। সব মিলিয়ে, আইনি লড়াই এবং রাজনৈতিক জল্পনার এই আবহে আগামীকালের জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব কোন নতুন মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।